ইরান এখন বিশ্বের চতুর্থ পরাশক্তি: ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবায়ি

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এবং সামরিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে ইরানের সংসদের (মজলিস) ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবায়ি দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো— ‘না আপস, না আত্মসমর্পণ; বরং প্রতিরোধ ও মোকাবিলা।’

হাজি বাবায়ি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘকাল ধরে ইরানকে ভৌগোলিকভাবে খণ্ড-বিখণ্ড করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে পাঁচ বা ছয়টি ছোট ও সংঘাতপূর্ণ রাষ্ট্রে বিভক্ত করা। 

এর মাধ্যমে তারা দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা ভূরাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখা সহজ হয়। তবে তেহরানের দৃঢ়তায় সেই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

মার্কিন কৌশলগত মহলের বরাত দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ইরানের দ্রুত উত্থানের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে যা পশ্চিমা বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলেছে:

ইরানের হাজার বছরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। ১৪০০ বছরের ইসলামী আদর্শিক চেতনা। ইরানি জনগণের উচ্চ মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রতিকূলতার মাঝে টিকে থাকার সক্ষমতা।

অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপের পথ বেছে নিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন হাজি বাবায়ি। 

তিনি বলেন, আল্লাহর ওপর ভরসা এবং নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা দিয়ে ইরান সেই চাপ মোকাবিলা করেছে। 

এই লড়াইয়ে তিনি আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘ইরাক–ভিত্তিক প্রতিরোধ শক্তি, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর সমর্থন প্রমাণ করেছে যে, ইরানকে সামরিকভাবে পরাজিত করা এখন অসম্ভব।’

তিনি দাবি করেন, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন ইরানকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করছে।

অর্থনৈতিক অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান তার তেল রপ্তানি ও বাণিজ্যিক পথ সচল রেখে মার্কিন অবরোধকে অকার্যকর করে দিয়েছে। 

একইসঙ্গে তিনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন। ইরান যদি এটি বন্ধ করে দেয়, তবে মুহূর্তের মধ্যে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্ববাজারে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দেবে।

বক্তব্যের শেষাংশে হাজি বাবায়ি ইরানের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, প্রকৃত বিজয় কেবল নীতিতে অটল থাকা এবং প্রতিরোধের মাধ্যমেই সম্ভব। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কিছু কঠোর বার্তা দেন:

ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা ও চাপমূলক নীতি প্রত্যাহার করতে হবে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আপস বা আলোচনা হবে না।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সম্পূর্ণ অবসান ঘটাতে হবে।