মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি তাদের ওপর নতুন করে কোনো সামরিক হামলা চালানো হয়, তবে তারা ইউরেনিয়ামের মজুতকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করবে- যা সরাসরি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় স্তরের সমান।
মঙ্গলবার (১২ মে) ইরানের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি এই কড়া বার্তা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে রেজায়ি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কর্তৃক আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটলে ইরানের অন্যতম প্রধান বিকল্প হবে ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ।’ তিনি আরও জানান, এই বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ইরানের পার্লামেন্টে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার পরিকল্পনা চলছে।
তেহরানের এই হুমকি এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরণের সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। ট্রাম্প শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে, ইরানের ‘পারমাণবিক কর্মসূচি’ ধ্বংস করতেই তিনি এই যুদ্ধ শুরু করেছেন। সোমবারও এক সতর্কবার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেব না। ওয়াশিংটন তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর কড়া নজর রাখছে এবং কেউ এর কাছে গেলেই তাকে উড়িয়ে দেওয়া হবে।’
জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আইএইএ (IAEA)-র তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪৪০ কিলোগ্রামের বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে যা ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরেনিয়ামকে ৬০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া একটি সহজ ও অত্যন্ত দ্রুততর প্রক্রিয়া। একবার ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ হয়ে গেলে একটি কার্যকর পারমাণবিক বোমা তৈরি করা স্রেফ সময়ের ব্যাপার মাত্র।
উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালেও ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি স্বীকার করেছিলেন যে, প্রয়োজন হলে তেহরান ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা রাখে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের এই আল্টিমেটাম বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সূত্র: এনডিটিভি
ইরানে 'গোপনে হামলা' চালিয়েছিল আরব আমিরাত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এখন 'লাইফ সাপোর্টে': ট্রাম্প
স্টারমারের পদত্যাগের সময় চেয়ে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় বিভক্তি