হরমুজ নিয়ে জাতিসংঘে তোড়জোড়, ১১২ রাষ্ট্রের সমর্থন

পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি শক্তিশালী খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে এই প্রস্তাবটির প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১১২টি রাষ্ট্র এই প্রস্তাবের সহ-পৃষ্ঠপোষক (Co-sponsor) হিসেবে স্বাক্ষর করেছে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটির সমর্থকদের তালিকায় তিন পৃষ্ঠাজুড়ে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর নাম রয়েছে। এর মধ্যে ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, আর্জেন্টিনা, কাজাখস্তান এবং সেনেগালের মতো দেশ যেমন রয়েছে, তেমনি ইউরোপের প্রায় সবকটি দেশ এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোও এতে সংহতি জানিয়েছে। অর্থাৎ, জাতিসংঘের মোট সদস্য পদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রাষ্ট্রই এই প্রস্তাবের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছে।

প্রস্তাবের মূল লক্ষ্যসমূহ:

নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা: হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অবাধ অধিকার নিশ্চিত করা।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখা।

নাবিকদের নিরাপত্তা: উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ইরানের প্রতি দাবি: ইরানকে তার প্রতিবেশীদের ওপর যেকোনো ধরনের আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড এবং বৈরী আচরণ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদে এই প্রস্তাবটি নিয়ে কবে ভোট হবে তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ব্যাপক জনসমর্থন থাকায় চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ এটি ভোটাভুটির জন্য উত্থাপন করা হতে পারে। এই প্রস্তাব পাস হলে তা ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা