ইরান যুদ্ধে ৩৯ যুদ্ধবিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ৩৯টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১২ মে) মার্কিন সিনেটের একটি বিশেষ কমিটির শুনানিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।

সিনেটের শুনানিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা এড কেস মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদ সংস্থা ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলেন, ইরানে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করেছে মার্কিন বিমান বাহিনী। এতে ৩৯টি বিমান পুরোপুরি ধ্বংস এবং অন্তত ১০টি বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হওয়া বিমানের তালিকায় একটি অত্যাধুনিক ‘এফ-৩৫এ লাইটনিং ২’ এবং একটি ‘বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি’র মতো দামী গোয়েন্দা বিমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (CFO) জে হার্স্ট শুনানিতে জানান, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত গোলাবারুদ ও সরঞ্জামের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার কোটি টাকা) ছাড়িয়ে গেছে। 

তবে ‘ইরান ওয়ার কস্ট ট্র্যাকার’ নামক একটি ওয়েবসাইটের হিসেবে এই ব্যয়ের পরিমাণ বর্তমানে ৭৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সেকেন্ডে খরচ হচ্ছে ১১ হাজার ৫৭৪ ডলার এবং প্রতিদিন খরচ প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে আমেরিকা তাদের অস্ত্রের ভাণ্ডারের বড় একটি অংশ শেষ করে ফেলেছে। এর মধ্যে ১,২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল (প্রতিটির দাম ৪০ লক্ষ ডলার) এবং ১,১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ মিসাইল রয়েছে। এসব মিসাইলের একটি বড় অংশ চীনের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য মজুত রাখা হয়েছিল, যা এখন ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়ে গেছে।

যুদ্ধের এই আকাশচুম্বী খরচ এবং অস্ত্রের অভাব মার্কিন সামরিক সক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। শুধু অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতেই পেন্টাগনের অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এই বিপুল আর্থিক বোঝা মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরণের মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করছে, যা নিয়ে খোদ সিনেটেও উদ্বেগ বাড়ছে। সূত্র: আনাদোলু ও নিউ ইয়র্ক টাইমস।