ট্রাম্প-শি জিনপিংয়ের বৈঠকে প্রাধান্য পাবে যেসব বিষয়

আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

দীর্ঘ কূটনৈতিক শীতলতা, তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান সংকটের মধ্যেই চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী (১৪ ও ১৫ মে) এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি মুখোমুখি হচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। ২০১৭ সালের পর দুই নেতার এটিই প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতির এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ বাণিজ্য থেকে শুরু করে তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি; সবচেয়ে স্পর্শকাতর বৈশ্বিক ইস্যুগুলোই আলোচনার টেবিলে উঠতে যাচ্ছে।

আলোচনার কেন্দ্রে ৫টি বড় ইস্যু:
১. ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা
বৈঠকের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হতে যাচ্ছে ইরান যুদ্ধ। যেহেতু চীন বর্তমানে ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা (রপ্তানির ৮০%), তাই ট্রাম্প চাইছেন শি জিনপিংকে ব্যবহার করে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি সচল রাখা এবং তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর বিষয়ে বেইজিংয়ের সক্রিয় ভূমিকা চায় ওয়াশিংটন।

২. শুল্ক ও নতুন বাণিজ্য চুক্তি
২০২৪ সালে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর চীনা পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেন। এবারের বৈঠকে ট্রাম্পের লক্ষ্য থাকবে চীনে সয়াবিন, গরুর মাংস এবং বোয়িং উড়োজাহাজের বাজার বড় করা। অন্যদিকে, বেইজিং চাইবে শুল্ক প্রত্যাহার করে তাদের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে।

৩. টেক-ওয়ার: চিপ বনাম বিরল খনিজ
প্রযুক্তিগত আধিপত্য নিয়ে দুই দেশের লড়াই এখন তুঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র উন্নত সেমিকন্ডাক্টর চিপ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীন ইলেকট্রনিক পণ্যের জন্য জরুরি ‘বিরল খনিজ’ রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। দুই নেতা এই প্রযুক্তিগত অচলাবস্থা নিরসনে কোনো ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করেন কি না, সেদিকে নজর সবার।

৪. তাইওয়ান প্রশ্ন
তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ দাবি করে চীন সেখানে সামরিক মহড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন তাইওয়ানকে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে। বেইজিং চাইবে ট্রাম্প যেন তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

৫. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও মানবাধিকার
এআই-এর ঝুঁকি এবং হংকংয়ের কারাবন্দি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জিমি লাই-এর মুক্তির বিষয়টিও ট্রাম্প আলোচনার টেবিলে তুলবেন বলে আগেভাগেই জানিয়ে রেখেছেন।

লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালভাদর সান্তিনো রেগিলমে বলেন, ‘এটি মূলত বৈশ্বিক নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই। দুই দেশই একে অপরের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। ফলে তারা এমন এক অর্থনৈতিক কাঠামোতে আটকে আছে, যেখান থেকে বের হতে গেলে দুই পক্ষেরই ক্ষতি হবে।’

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক বৈঠকে সব সমস্যার সমাধান অসম্ভব। তবে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প এমন কিছু ‘দৃশ্যমান সাফল্য’ দেখাতে চান যা তিনি ভোটারদের কাছে অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। একটি সীমিত ‘বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতি’ বা ইরান ইস্যুতে প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

FJ
আরও পড়ুন