পদত্যাগের চিন্তা করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার!

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর এক দিনে চার জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। ৮৬ জন এমপি তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। 

প্রকাশ্যে পদত্যাগ না করার ক্ষেত্রে অনড় থাকলেও ঘনিষ্ঠজনদের কাছে পদত্যাগের চিন্তা করার কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গতকাল প্রকাশ করেছে।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ১১১ জন এমপি প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে সমর্থন জানিয়েছেন। সহকর্মীদের প্রতিও স্টারমারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি চ্যালেঞ্জ নিতেও প্রস্তুত। তবে লেবার পার্টি সমর্থিত ইউনিয়নগুলোও মনে করছে, আগামী নির্বাচনে স্টারমার দলের নেতৃত্বে থাকছেন না।

স্টারমার পদত্যাগ করলে কী হবে?

লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিয়ম অনুযায়ী দলটির এমপিদের অন্তত ২০ শতাংশ কোনো বিকল্প প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দিলে বর্তমান নেতাকে চ্যালেঞ্জ করা যায়। তবে এর আগে স্টারমার তার মন্ত্রিসভাকে বলেছেন, এখনো সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

স্টারমারের জায়গায় কে আসতে পারেন?

যাদের নাম আলোচনায় আছে, তারা হলেন—স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার ও গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে স্ট্রিটিং বা রেনার, কেউই এখনো এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। আর বার্নহ্যাম বর্তমানে এমপি নন। 

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হন স্টারমার। হাউজ অব কমন্সে ৬৫০টি আসন রয়েছে। লেবার পার্টি ৪১২টি আসনে জিতেছিল। বর্তমানে দলটির আসন সংখ্যা ৪০৩টি। স্টারমার ২০২০ সাল থেকে লেবার পার্টির নেতা।

স্টারমার কি সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিতে পারেন?

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী চাইলে আগাম সাধারণ নির্বাচন ডাকতে পারেন। এজন্য তাকে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ করতে হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্লামেন্ট বন্ধ করার এই প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডিজলভ’ বলে। 

এরপর বর্তমান ৬৫০ জন এমপির মধ্যে যারা নিজেদের আসন ধরে রাখতে চান, তাদের আবার নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। 


নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালের ১৫ অগাস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে চাইলে স্টারমার তার আগেই নির্বাচন ডাকতে পারেন। —বিবিসি