শান্তিচুক্তি আলোচনার প্রতিনিধিদল থেকে সরে দাঁড়ালেন গালিবাফ

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ ঘিরে ইরানের কূটনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ করেই বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে, যা অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের জেরেই ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হচ্ছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ায় তাকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত সেই চাপের মধ্যেই তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কট্টরপন্থি নেতা সাঈদ জালিলি'র নাম সামনে আসছে। একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিজেও আলোচনার নেতৃত্ব নেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

এদিকে পাকিস্তানের একটি সরকারি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারণ, আরাঘচির নেতৃত্বে একটি ইরানি প্রতিনিধি দল শুক্রবার রাতেই পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এর আগে একই দিন আরাঘচি পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন, যা উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে।

আলোচনায় ইসহাক দার দীর্ঘমেয়াদি সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে আরাঘচি পাকিস্তানের ধারাবাহিক ও গঠনমূলক সহায়ক ভূমিকাকে প্রশংসার সঙ্গে উল্লেখ করেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত বহন করে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ দাবি করেছে, আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর সঙ্গেও আলাদাভাবে ফোনে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা অস্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। ইসলামাবাদ থেকেও সামরিক পর্যায়ের এই যোগাযোগের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

এই কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই সপ্তাহের শুরুতে অন্তত নয়টি মার্কিন বিমান ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে বলে জানা গেছে। এসব বিমানে যোগাযোগ সরঞ্জাম, যানবাহন, নিরাপত্তাকর্মী এবং প্রযুক্তিগত কর্মী আনা হয়েছে। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল, রয়টার্স

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত