ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠক

বেজিংয়ের এজেন্ডায় বাজার সুবিধা, শুল্ক এবং ইরান সংকট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩৬ ঘণ্টার এক ঝটিকা সফরে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন। এই সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয় স্থান পেতে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সফর শুরুর আগে ট্রাম্প উষ্ণ অভ্যর্থনার আশা ব্যক্ত করলেও তার মূল লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। ট্রাম্পের সাথে রয়েছেন মার্কিন শিল্পের বাঘা বাঘা প্রতিনিধিরা। যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি হলো চীনের ১.৪ বিলিয়ন ভোক্তার বিশাল বাজার মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছেন, যা মার্কিন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

অন্যদিকে, চীন চাইছে দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য যুদ্ধের অবসান না হলেও অন্তত শুল্কের ক্ষেত্রে একটি স্থিতিশীলতা। ট্রাম্প প্রশাসনের হুটহাট শুল্ক পরিবর্তনের যে নীতি, তা চীনা রপ্তানিকারকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা চায় একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থিতিশীল শুল্ক কাঠামো, যাতে ব্যবসা পরিচালনায় অনিশ্চয়তা কমে।

এছাড়াও এই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে চলমান ইরান সংকট। চীন হলো ইরানের তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারণা, চীনের এই জ্বালানি কেনাই ইরানকে দীর্ঘ মেয়াদে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সাহায্য করছে। ট্রাম্প চাইছেন শি জিনপিং তার প্রভাব খাটিয়ে ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে বাধ্য করুন। তবে দীর্ঘকাল ধরেই চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বা বৈশ্বিক দ্বন্দ্বে হস্তক্ষেপ করতে অনীহা প্রকাশ করে আসছে।

প্রেসিডেন্ট শির জন্য এটি একটি বড় সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ। তিনি কি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন, নাকি নিজস্ব কোনো প্রস্তাব দেবেন তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল রয়েছে। ট্রাম্পের এই ৩৬ ঘণ্টার সফরে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: আলজাজিরা