মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের অনুরোধ এবং অন্যান্য দেশের আহ্বানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি যুদ্ধবিরতির পক্ষে ছিলেন না।
চীন সফর শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা মূলত অন্য দেশগুলোর অনুরোধে যুদ্ধবিরতি করেছি। আমি নিজে এর পক্ষে ছিলাম না। পাকিস্তানের জন্য আমরা এটি করেছি। তারা অসাধারণ মানুষ—ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রীও।’
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য বন্ধ রাখার প্রস্তাব তিনি বিবেচনা করতে পারেন। তবে তেহরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে তিনি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ‘ব্যর্থ নয়’: আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এখনো ব্যর্থ হয়নি, তবে তা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।
নয়াদিল্লিতে ইরানি দূতাবাসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এখনো ব্যর্থ হয়নি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ এবং আমাদের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের কারণে প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।’
আরাগচি বলেন, ইরান বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে যাতে কূটনীতির জন্য সুযোগ তৈরি হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের কোনো আস্থা নেই এবং ওয়াশিংটন সত্যিকারের আলোচনায় আগ্রহী হলেই কেবল আলোচনা এগোতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাচ্ছি। এতে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের সন্দেহ আরও বেড়েছে।’
চীনের সহায়তা চায় তেহরান
আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করে বার্তা পাঠিয়েছে। একইসঙ্গে চীনের সম্ভাব্য সহায়তাকেও স্বাগত জানিয়েছে তেহরান।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন যেকোনো দেশের সহায়তাকে স্বাগত জানাই, যারা কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে চীনকে।’
আরাগচি বলেন, ইরান ও চীন কৌশলগত অংশীদার এবং বেইজিংয়ের সদিচ্ছার বিষয়ে তেহরানের আস্থা রয়েছে।
রাশিয়ার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণে রাশিয়ার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আরাগচি। তিনি বলেন, আলোচনার পরবর্তী ধাপে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
তার ভাষায়, ‘যখন আমরা সেই পর্যায়ে পৌঁছাব, তখন রাশিয়ার সঙ্গে আরও আলোচনা হবে এবং তাদের প্রস্তাব সহায়ক হতে পারে কিনা তা দেখা হবে।’
আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি ‘খুবই জটিল’ এবং ইরান সেখানে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
তিনি জানান, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত দেশ ছাড়া অন্য সব দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে। তবে জাহাজগুলোকে ইরানি নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।’
আইআরজিসি সংশ্লিষ্টদের ধরতে পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর ড্রোন উৎপাদন ইউনিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয় ব্যক্তির তথ্য দিলে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
ওয়াশিংটনের দাবি, কিমিয়া পার্ট সিভান কোম্পানি নামে পরিচিত ইউনিটটি আইআরজিসির কুদস ফোর্সের জন্য ড্রোন পরীক্ষা, উন্নয়ন ও সরবরাহে জড়িত।
‘যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই’: চীন
চীনও ইরান যুদ্ধ অব্যাহত রাখার বিরোধিতা করেছে। বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠকের শেষ দিনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘এই সংঘাত চলতে থাকার কোনো অর্থ নেই। শুরু থেকেই এই যুদ্ধ হওয়া উচিত ছিল না।’
চীন বলেছে, দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জন্য নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।
বেইজিং আরও বলেছে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে সমুদ্রপথ দ্রুত খুলে দেওয়া প্রয়োজন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য টেকসই কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন