তিন দিনের বেইজিং সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরেই স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড তাইওয়ানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে গত বছরের শেষ দিকে তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের যে অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন, তা পুনর্বিবেচনা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সফর শেষে মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাইওয়ানের স্বাধীনতার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, আমি চাই না কেউ স্বাধীন হয়ে যাক। আমরা যুদ্ধ চাই না। বর্তমান পরিস্থিতি যেমন আছে তেমনই যদি থাকে, তবে চীনের কাছে এটি বড় কোনো সমস্যা হবে না। তাইওয়ানকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, আমরা কখনোই চাই না কেউ বলুক- ‘চলো আমরা স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করি, কারণ যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সমর্থন করছে’। এটি কাম্য নয়।
১৯৪৯ সাল থেকে চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ দাবি করে আসছে, অন্যদিকে তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র মনে করে। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই তাইওয়ানের পাশে থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং ‘এক-চীন’ নীতি বজায় রেখেই অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অঞ্চলটিতে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চীন-তাইওয়ান যুদ্ধ বেঁধে গেলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা পাঠাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, যুদ্ধ হলে আমাদের সেনাবাহিনীকে ৯ হাজার ৫০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে অংশ নিতে হবে, যার কোনো মানে হয় না। আমি এটা চাই না। আমি চাই তাইওয়ান ও চীন উভয়ই শান্ত থাকুক। তিনি আরও জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং শি জিনপিংও যুদ্ধে জড়াতে চান না।
পেন্টাগন কর্তৃক ঘোষিত ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের রকেট লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ ‘অস্ত্র প্যাকেজ’ চুক্তিটি বাতিল বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, সফরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই চুক্তির ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমি এটি পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এখন যারা তাইওয়ান চালাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলব।
এদিকে ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তাইপেই। তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চি এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং অস্ত্র চুক্তি কার্যকরের নিশ্চয়তা চায় তাইওয়ান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি আইন দ্বারা সংরক্ষিত এবং এটি এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রধান স্তম্ভ।