লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে দক্ষিণ লেবাননজুড়ে চলছে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ ও সহিংস হামলা। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে হচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।
আজ শনিবার ভোর থেকেই লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় ইয়োহমোর এবং খেরবেত কানাফার এলাকায় ব্যাপক আর্টিলারি বা কামান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এর ঠিক আগের দিন, যখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের ঐতিহাসিক টায়ার (Tyre) শহরের দুটি বহুতল ভবন অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দেয়। খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই ভবন দুটিতে বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে শহরটিতে নতুন করে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ও বাস্তুচ্যুতির সৃষ্টি হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে ইসরায়েল ক্রমাগত টায়ার শহরের কাছাকাছি অঞ্চলের শহর ও গ্রামগুলো খালি করার আলটিমেটাম দিচ্ছিল। প্রাণভয়ে ওইসব এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে টায়ার শহরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার খোদ টায়ার শহরের ভেতরের ভবনে হামলা হওয়ায় বাস্তুচ্যুত এই মানুষগুলোর আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। ঘরবাড়ি হারিয়ে হাজার হাজার পরিবার এখন শহরের বিভিন্ন পার্ক এবং খোলা রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
আজ সকাল থেকেও টায়ার শহরের আকাশে ইসরায়েলি ড্রোনের কান ফাটানো শব্দ শোনা যাচ্ছে। নিচু দিয়ে উড়ে চলা এই ড্রোনগুলো গভীর রাত থেকেই পুরো শহরে চক্কর দিচ্ছে। ফলে যুদ্ধবিরতির চুক্তি আদৌ কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে মানুষ চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
দক্ষিণ লেবাননের সাধারণ মানুষের জন্য এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কোনো স্বস্তি আনতে পারেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েল মূলত হামলার তীব্রতা বাড়াতেই যুদ্ধবিরতির এই সময়টাকে ব্যবহার করছে, যা তারা পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতির সময়ও করেছিল। ফলে যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সবাই আশঙ্কা করছেন। সূত্র: আলজাজিরা