যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘ইরানের ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে।’
রোববার (১৭ মে) দেওয়া ওই পোস্টে ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘তাদের (ইরান) উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, তা না হলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময়টাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়!’
এর আগে এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক পূর্বে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে তাদের পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। এবার তার নতুন বার্তায় সেই পুরানো হুমকিরই প্রতিধ্বনি শোনা গেল।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানের দাবিগুলোকে 'পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য' আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতি এখন মূলত 'ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে' রয়েছে।
তেহরানের দাবি ও ওয়াশিংটনের ৫ শর্ত
সংঘাত নিরসনে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো যোজন যোজন দূরে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির দাবি, তেহরানের সবশেষ প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সুনির্দিষ্ট ছাড় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াশিংটন আপস না করলে আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে যেতে পারে।
ইরানের মূল দাবিগুলো (তাসনিম নিউজের তথ্যমতে):
লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরাইলি হামলাসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা।
ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা।
ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা দেওয়া।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা ৫ শর্ত (ফারস নিউজের তথ্যমতে):
অন্যদিকে, ফারস নিউজ জানিয়েছে যে ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে ৫টি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। যার মধ্যে প্রধান দুটি হলো:
১. ইরানকে কেবল একটি পরমাণু স্থাপনা সচল রাখার অনুমতি দেওয়া হবে।
২. তাদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
মার্কিন অবস্থানের কিছুটা নমনীয়তা?
গত শুক্রবার ট্রাম্প কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত করে, তবে তিনি সেটি মেনে নেবেন। একে পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার আগের কঠোর অবস্থান থেকে মার্কিন প্রশাসনের কিছুটা সরে আসার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তেলের বাজারে আগুন ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনী। এরপর আলোচনার সুবিধার্থে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে ইরান।
মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরানের নেওয়া এই পদক্ষেপের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। অন্যদিকে, তেহরানকে শর্ত মানতে বাধ্য করতে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান, তবে চলমান অচলাবস্থা কাটানোর মতো কোনো সমাধান এখনো দৃশ্যমান নয়।