যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে ট্রাম্পের আশাবাদ, ভ্যান্সের হুঁশিয়ারি

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ এএম

ইরান যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি সচল করার লক্ষ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি হাই-ভোল্টেজ পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা শেষ হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় তিন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচকদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘ আলোচনার পর দুই পক্ষই চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা তদারকি করতে একটি ‘দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যম’ বা কুইক রেসপন্স চ্যানেল চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে এই সমঝোতার টেবিলেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম বাড়ানোর তীব্র সমালোচনা ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরানের প্রতিনিধি দল।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, "সমঝোতা স্মারকের একটিমাত্র শর্ত লঙ্ঘন হলেও পুরো চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে।" একই সুরে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার জানিয়ে দিয়েছেন, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (IAEA) কোনোভাবেই পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে জব্দ থাকা ইরানি তহবিলের একটি অংশ তেহরানের জরুরি প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

দোহা বৈঠকের ফলাফল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার দাবি, ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং দোহার আলোচনা চমৎকার ও ফলপ্রসূ হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই নরম সুরের বিপরীতে ঠিক উল্টো ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ট্রাম্পের দাবিকে একপ্রকার পাশ কাটিয়ে ভ্যান্স হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আলোচনা এখনও একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ওয়াশিংটন মূলত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।" ভ্যান্স স্পষ্ট ভাষায় তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি পুনরায় পরমাণু কর্মসূচি চালু করে কিংবা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বাধা দেয়, তবে ওয়াশিংটনের হাতে সামরিক পদক্ষেপসহ সব ধরনের ‘বিকল্প পথ’ খোলা রয়েছে।

SN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত