‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে পুনরায় মার্কিন হামলার আশঙ্কা’

আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে পুনরায় সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিসের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। 

সোমবার (১৮ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।

এলমাসরি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টরপন্থী ‘যুদ্ধবাজ’ কর্মকর্তারা নতুন করে যুদ্ধ শুরুর জন্য অনবরত চাপ দিচ্ছেন। 

তিনি বলেন, ‘ইরানের কাছ থেকে ট্রাম্প যে ধরনের আত্মসমর্পণ আশা করেছিলেন, তা পাননি। এমনকি চীন সফরের সময়ও ইরান ইস্যুতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় তিনি আশানুরূপ ফল পাননি।’ 

এলমাসরির মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ বন্ধ করাই সমীচীন হবে, তবে একটি 'বিশ্বাসযোগ্য বিজয়' ঘোষণা করতে না পেরে তিনি পিছু হটতে পারছেন না।

এদিকে ইরানে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রে ‘রাজনৈতিক বিপ্লব’ হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেইলর গ্রিন। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট বলেছি-আর কোনো বিদেশি যুদ্ধ নয়। যদি ইরানে সেনা পাঠানো হয়, তবে আমেরিকার জনগণ এর বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এই বোকামি বন্ধ করুন।’

অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথও খোলা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরানের প্রধান দাবি হলো জব্দকৃত অর্থ (ফ্রোজেন ফান্ড) মুক্ত করা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। 

তিনি জানান, পাকিস্তান নিয়মিত দুই দেশের প্রস্তাব ও মন্তব্য আদান-প্রদান করছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে দেওয়া তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দিয়েছে তেহরান।

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৪ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ট্রাম্পের সম্মতিতে বর্ধিত করা হয়। তবে বর্তমান উত্তেজনা সেই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।