রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাই-প্রোফাইল চীন সফরের মাত্র এক দিন আগে কৃষ্ণ সাগরে একটি চীনা মালিকানাধীন কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
সোমবার (১৮ মে) ওদেসা বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। পুতিন ও শি জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে এই ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক অস্বস্তি ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবারের রুশ হামলায় দুটি বেসামরিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ‘কেএসএল দেইয়াং’ নামক জাহাজটি চীনা মালিকানাধীন এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী। অন্য জাহাজটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ছিল। দুটি জাহাজই ওদেসা অঞ্চলের বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
ইউক্রেনীয় নৌবাহিনী হামলার শিকার চীনা জাহাজটির একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে এর আংশিক পুড়ে যাওয়া অংশ দেখা যাচ্ছে। নৌবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, জাহাজটিতে অবস্থানরত সব নাবিকই চীনা নাগরিক ছিলেন। তবে সৌভাগ্যবশত হামলায় কোনো নাবিক হতাহত হননি। হামলার সময় জাহাজটি খালি ছিল এবং ওদেসার পিভদেননি বন্দরে লৌহ আকরিক বোঝাই করতে যাচ্ছিল।
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশ ড্রোনগুলো ওদেসায় আঘাত হেনেছে এবং একটি ড্রোন সরাসরি চীনা মালিকানাধীন জাহাজে আঘাত করেছে। সমুদ্রে কোন জাহাজটি কোন দেশের ছিল, সে বিষয়ে রুশ বাহিনীর অজানা থাকার কোনো সুযোগ নেই। বেসামরিক জাহাজে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপদ সমুদ্র চলাচলের জন্য বড় হুমকি।’
ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে রাশিয়া নিয়মিতভাবে ওদেসা বন্দরের আশপাশে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনের কৃষিপণ্য ও খনিজ রপ্তানির জন্য ওদেসা একটি কৌশলগত কেন্দ্র। তবে নিজের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের জাহাজে রাশিয়ার এই হামলা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।সূত্র: আল জাজিরা