যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ফের হামলা করলে যেভাবে আঘাত হানতে পারে ইরান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিলেও, পরে জানান যে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলায় পরিকল্পিত হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে বসে নেই ইরান। সম্ভাব্য যেকোনো মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার চূড়ান্ত জবাব দিতে তেহরান ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার হামলা হলে প্রতিবেশী দেশগুলো এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে এর চরম মূল্য দিতে হবে।

১. ইরান কী আশঙ্কা করছে?

জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের ইরান বিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হামিদ রেজা আজিজির মতে, এবারের যুদ্ধ পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।

স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র যুদ্ধ: চলতি বছরের প্রথম দফার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার সীমিত রেখেছিল। কিন্তু এবার যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরানি নেতারা ধারণা করছেন এটি হবে ‘স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র’।

জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত: ইরানের আশঙ্কা, এবার তাদের মূল জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে সমন্বিত ও ভারী হামলা চালানো হতে পারে।

২. ইরানের পাল্টা আঘাতের মূল কৌশলসমূহ

যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়, তবে তেহরান মূলত নিচের কৌশলগুলো ব্যবহার করে পাল্টা আঘাত হানতে পারে:

ক. ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

নতুন করে লড়াই শুরু হলে ইরান শত্রুপক্ষকে কোণঠাসা করতে এবং তাদের যুদ্ধকৌশল ও হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিতে প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে শুরু করে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে।

খ. উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর আক্রমণ

বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ইরানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও বন্দরগুলোয় আঘাত হানা।

আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পৃক্ততা: সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এই যুদ্ধ এড়াতে চাইলেও, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে তারা এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

আমিরাত বিরোধী অবস্থান: মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ক্ষুব্ধ তেহরান। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক মেহেদি খারাতিয়ান তো এক সাক্ষাৎকারে উগ্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে তারা আবুধাবি দখল করবেন।

"বক্তব্যগুলো যতই অতিরঞ্জিত হোক না কেন, এগুলো ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে।"
— আলী আলফোনেহ (সিনিয়র ফেলো, আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউট)