ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০% 'রিপার ড্রোন' ধ্বংস: ব্লুমবার্গ

ইরানের সামরিক অভিযানে বড় ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন বহরের প্রায় ২০ শতাংশ ধ্বংস করেছে ইরান, যার আর্থিক মূল্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলার। বিস্তারিত পড়ুন প্রতিবেদনে।

এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, মার্কিন ড্রোন ধ্বংস, পেন্টাগন যুদ্ধ ব্যয়, ব্লুমবার্গ প্রতিবেদন।

ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক 'এমকিউ-৯ রিপার' (MQ-9 Reaper) ড্রোন ধ্বংস করেছে ইরান। এটি যুদ্ধ-পূর্ব সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট মনুষ্যবিহীন আকাশযান (UAV) বা ড্রোন বহরের প্রায় ২০ শতাংশ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

আকাশে ও মাটিতে মার্কিন ড্রোন ধ্বংস

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া ড্রোনগুলোর একটি বড় অংশ আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় নিখুঁত নিশানা বানিয়ে ভূপাতিত করেছে ইরান। এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় বেশ কিছু রিপার ড্রোন মাটিতে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস হয়ে যায়।

কতটি ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র?

ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, চলমান এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র মোট ৩০টি পর্যন্ত এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়ে থাকতে পারে। এই সংখ্যাটি মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২৪টি ডোন ধ্বংসের পূর্বাভাসের চেয়েও অনেক বেশি।

এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের ক্ষমতা: যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল অ্যাটমিকসের তৈরি এই ড্রোনটি মূলত নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হলেও এটি নিখুঁত হামলার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। এতে সাধারণত 'হেলফায়ার' ক্ষেপণাস্ত্র এবং 'জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন' (JDAM) গাইডেড বোমা যুক্ত থাকে।

আকাশ প্রতিরক্ষায় ট্রাম্পের দাবিকে বুড়ো আঙুল ইরানের

এই বিপুল পরিমাণ ড্রোন ধ্বংসের ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইরান এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রেখেছে। অথচ কিছুদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার এই ঘটনা ট্রাম্পের সেই দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে।

রেকর্ড ছুঁয়েছে পেন্টাগনের যুদ্ধ ব্যয়

টানা ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের ফলে ওয়াশিংটনের যুদ্ধ ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মে মাস পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট যুদ্ধ ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন (২,৯০০ কোটি) ডলারে।

এদিকে, মার্কিন বিমানবাহিনী এই এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনগুলো ধীরে ধীরে তাদের বহর থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করলেও, এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল অ্যাটমিকস বিদেশি গ্রাহকদের জন্য এখনো এর উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।

নেপথ্যে রাশিয়া ও চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের চলাচল (ফ্লাইট প্যাটার্ন) বিশ্লেষণে সরাসরি সহায়তা করছে রাশিয়া। দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে স্যাটেলাইট তথ্য বিনিময় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিজস্ব প্রযুক্তির পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের তৈরি অত্যাধুনিক সামরিক সিস্টেমের সমন্বয়ে গঠিত।

এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার সেই ঘটনা

এর আগে এপ্রিল মাসে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি 'এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল' (F-15E Strike Eagle) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল। ওই ঘটনার পর মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারে ওয়াশিংটনকে একটি বড় ধরনের ও ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান চালাতে হয়েছিল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ওই পাইলট যদি ইরানের হাতে আটক হতেন, তবে তা ওয়াশিংটনের ওপর চরম ভূ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করত। সূত্র: ব্লুমবার্গ ও মিডল ইস্ট আই