'লেবাননে প্রকৃত যুদ্ধবিরতি হলেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা বাড়াবে ইরান'

আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ০২:৫২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান শান্তি আলোচনা গিয়ে নিতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত, তবে তার আগে তেহরান দেখতে চায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করার ক্ষমতা রাখেন কি না।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন।

ফুয়াদ ইজাদি জানান, কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার আগে সমস্ত ফ্রন্ট বা সীমান্তে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়ে ইরান যে জোর দাবি জানাচ্ছে, তার মূল কারণ হলো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ সম্পর্ক।

ইরানি এই বিশ্লেষকের মতে, তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে একটি সাধারণ ঐকমত্য বা ধারণা তৈরি হয়েছে যে—এই যুদ্ধটি মূলত নেতানিয়াহুর নিজস্ব যুদ্ধ এবং তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিজের সাথে এই যুদ্ধে টেনে আনতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি আমেরিকার সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের সূত্র ধরে উল্লেখ করেন, নেতানিয়াহু এর আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টদেরও ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর জন্য চাপ দিয়েছিলেন, কিন্তু পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

ইজাদির মতে, এই পুরো পরিস্থিতিতে লেবানন হলো ট্রাম্পের জন্য আসল 'লিটমাস টেস্ট' বা অগ্নিপরীক্ষা। কাগজে-কলমে বর্তমানে একটি যুদ্ধবিরতি বিদ্যমান থাকলেও, বাস্তবে সেটি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই শত শত সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের জন্য এটিই দেখার বড় পরীক্ষা যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশেষে নেতানিয়াহুর প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দেখাতে পারেন কি না। ইরান যদি লেবাননে একটি প্রকৃত ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে পারে এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটে, তবেই আমেরিকার সাথে আলোচনার প্রক্রিয়া সামনে এগিয়ে যেতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত