হরমুজ-ইউরেনিয়াম ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে ‘সবচেয়ে সংবেদনশীল ধাপে’  প্রবেশ করেছে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা যখন তীব্রতর হচ্ছে, ঠিক তখনই তেহরানে একটি কাতারি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বর্তমান সময়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটময়। কাতার ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দর আল-এতাইবি এই বিশ্লেষণ দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আল-এতাইবি উল্লেখ করেন, এই আলোচনার মূল মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতারের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চুক্তির ক্ষেত্রে এখনো বেশ কয়েকটি মূল প্রশ্ন কোনো স্পষ্ট রূপরেখা ছাড়াই ঝুলে রয়েছে। প্রশ্নগুলো হলো-

  • হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ কী হবে?
  • ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা কতটুকু নির্ধারণ করা হবে?
  • যুদ্ধবিরতির এই প্রক্রিয়াটিকে কীভাবে কার্যকর গ্যারান্টির সাথে যুক্ত করা সম্ভব?

আল-এতাইবি বলেন, ঠিক এই জায়গাটিতেই কাতারের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাতার এখানে মূল মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে না বা পাকিস্তানকে প্রতিস্থাপন করছে না; বরং তারা দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসের জায়গাটি আরও প্রসারিত করতে এবং যোগাযোগের মাধ্যম বা চ্যানেলগুলো যেন পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে, তা নিশ্চিত করে পাকিস্তানকে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি অত্যন্ত নাজুক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করে এই বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, আমরা এখন এমন এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখান থেকে হয় একটি প্রাথমিক চুক্তি অর্জিত হবে—যা সব পক্ষকেই নিজেদের সম্মান বাঁচিয়ে একটি রাজনৈতিক পথ উন্মোচনের সুযোগ দেবে, অথবা আলোচনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে; যা তথাকথিত বিজয়ের আখ্যানকে এক সুদূরপ্রসারী ও বৃহত্তর সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে। সূত্র: আল জাজিরা