চূড়ান্ত পর্বে মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তি, নেপথ্যে পাকিস্তানের সফল কূটনীতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ঐতিহাসিক যে সম্ভাব্য চুক্তি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে, তার নেপথ্যে প্রধান কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। কাতার বা সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী আঞ্চলিক দেশগুলো এই শান্তি প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকলেও, শেষ পর্যন্ত সমস্ত কূটনৈতিক তৎপরতার মূল কেন্দ্রে রয়েছে ইসলামাবাদ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই বহুল প্রতীক্ষিত চুক্তিটি এখন প্রায় চূড়ান্ত এবং খুব শীঘ্রই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

এই জটিল ও সংবেদনশীল কূটনৈতিক সফলতার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনির। আমেরিকা-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ চলাকালীন তিনি নিজে দুই দুইবার তেহরান সফর করেন। সেখানে ইরানি নীতিনির্ধারকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে তিনি আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেন এবং শেষ পর্যন্ত সফল হন। তাঁর এই অনবরত ও কঠোর প্রচেষ্টার ফলেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যকার প্রথম দফার ঐতিহাসিক আলোচনাটি অনুষ্ঠিত সম্ভব হয়েছিল, যা গত প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে আমেরিকান ও ইরানিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।

পাকিস্তান এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি হলেও আঞ্চলিক অন্যান্য রাষ্ট্র যেমন তুরস্ক এবং মিশরও এই দুই বৈরি দেশের মধ্যকার মতভেদ ও দূরত্বের দেয়াল কমিয়ে আনার জন্য ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে গেছে। তবে সামগ্রিকভাবে পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াটি তদারকি ও সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার একক কৃতিত্ব পাচ্ছে পাকিস্তান। সূত্র: আল জাজিরা