যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হলেও বৈশ্বিক তেলের বাজার আরও কিছু দিন চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতার মধ্যেই থাকবে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে একটি চুক্তি ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’ হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব বাজারে নতুন আশার সঞ্চার করেছিলেন। ওই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া।
তবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'স্পার্টা'-র সিনিয়র তেল বাজার বিশ্লেষক জুন গোহ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণায় বাজারে আশা জাগলেও কাঠামোগত বা মৌলিকভাবে ভেতরের চিত্রের এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি। কারণ, হরমুজ প্রণালি যত দিন বন্ধ থাকবে, তত দিন প্রতিদিন বাজার থেকে ১০ থেকে ১১ মিলিয়ন (১ কোটি থেকে ১ কোটি ১০ লাখ) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বন্ধই থাকবে।
বিশ্লেষক জুন গোহ উল্লেখ করেন, চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই প্রণালীতে অবরুদ্ধ বা আটকে থাকা জাহাজগুলো থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের একটি বিশাল প্রবাহ বাজারে চলে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছে বিশ্ব বাজার। তবে এই বিপুল পরিমাণ তেলের সরবরাহ আসার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর বেশ কিছু দিন বাজারগুলোতে তীব্র অনিশ্চয়তা ও ওঠানামা বজায় থাকবে।
স্পার্টা'র হিসাব ও মূল্যায়ন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ার পর সবকিছুকে একদম আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আরও প্রায় ৩ থেকে ৬ মাস সময়ের প্রয়োজন হবে। কারণ, বন্ধ হয়ে যাওয়া তেল উৎপাদন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করা এবং তেল শোধনাগারকে আবার পুরোপুরি সচল ও অনলাইন করার জন্য এই সময়টুকুর প্রয়োজন হবেই। সূত্র: আল জাজিরা