সিরিয়ায় তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং একটি নতুন সামরিক শক্তির উত্থান নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, সিরিয়ার এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে তেল আবিবের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, সম্প্রতি ইসরায়েলের হিব্রু ভাষার প্রভাবশালী দৈনিক "মা'আরিব"-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে আঙ্কারার এই আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধিকে ইসরায়েলের জন্য একটি "বিপজ্জনক হুমকি" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
সিরিয়ায় তুরস্কের প্রভাব ও 'নতুন সিরীয় সেনাবাহিনী'
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার বর্তমান আসাদ সরকারের পতনের পর সেখানে এক নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। প্রথমবারের মতো আঙ্কারার প্রত্যক্ষ সমর্থনে গঠিত "নতুন সিরীয় সেনাবাহিনী" আন্তর্জাতিক সামরিক অঙ্গনে নিজেদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো আঙ্কারার সাথে সিরিয়ার নতুন সামরিক জোটকে আরও শক্তিশালী করা। সিরিয়ার এই ভবিষ্যৎ সামরিক রূপরেখা ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও সংশয় তৈরি করেছে।
ভূ-রাজনীতি এবং ন্যাটোর নতুন সমীকরণ
"মা'আরিব" তাদের নিবন্ধে উল্লেখ করেছে, তুরস্ক শুধু সিরিয়াতেই নয়, সামগ্রিক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। আগামী ৭-৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করার পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতিতেও নিজেদের অবস্থান সুসংহত করছে দেশটি।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক প্রতিশ্রুতির হ্রাস, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে তুরস্ক নিজেকে ইউরোপ ও ন্যাটোর জন্য একটি অপরিহার্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।
ইসরায়েলের মূল উদ্বেগ যেখানে
ইসরায়েলি সামরিক সূত্রগুলোর আশঙ্কা, সিরিয়ার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকার তুরস্কের সহায়তায় নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করছে এবং একটি আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তুলছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য মনে হলেও, ভবিষ্যতে এই শক্তি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মোড় নিতে পারে।
এক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য:
"আমরা সিরিয়ার বর্তমান সরকারকে মোটেও বিশ্বাস করি না। সিরিয়ায় তুরস্কের এই প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাকে আমাদের অত্যন্ত বিপজ্জনক হুমকি হিসেবেই দেখতে হবে।"
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিরিয়া সীমান্তে তুরস্কের মতো একটি শক্তিশালী ন্যাটো সদস্য দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বৃদ্ধি পাওয়া এবং সেখানে একটি নতুন ইসরায়েল-বিরোধী সামরিক জোট গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তেল আবিবের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করছে।