সিএনএনের প্রতিবেদন

ট্রাম্পকে হত্যার ইরানি ছক: ইসরায়েলি তথ্যের আসল উদ্দেশ্য কী?

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করতে ইরান নতুন একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইসরায়েল।

এই বিষয়ে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাঝেই এই খবর দুই দেশের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।

আরেকটি সূত্র উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য ইরানি পরিকল্পনা নিয়ে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ইসরায়েলের দেওয়া এই নতুন তথ্যটি একেবারেই আলাদা এবং এটি একটি সুনির্দিষ্ট চক্রান্তের সাথে সম্পর্কিত।

অবশ্য কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপকে আরও জোরদার করতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার জন্য ইসরায়েল এই প্রতিবেদনটি ব্যবহার করে থাকতে পারে। ইসরায়েলের সতর্ক করা এই প্লটের বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয় এবং মার্কিন প্রশাসন নিজেরা এটি খতিয়ে দেখেনি। ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন সতর্ক রয়েছে যে ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রথম প্রকাশিত এই গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তারা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ইঙ্গিত করে। গত বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "তারা মার্কিন নেতাকে—অর্থাৎ আমাকে সরিয়ে দিতে চায়। আজ সকালে দেখলাম আমি তাদের প্রতিটি তালিকার শীর্ষে আছি। এ পর্যন্ত আমি কিছুটা ভাগ্যবান, তবে হয়তো এটি দীর্ঘদিন টিকবে না। এরা অত্যন্ত দুষ্ট ও অসুস্থ মানুষ।"

পরে ট্রাম্প জানান, তিনি সম্প্রতি একটি নতুন তালিকার কথা জানতে পেরেছেন যেখানে তাকে ইরানের ১ নম্বর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে তিনি ইসরায়েলের দেওয়া তথ্যের কথা বলছিলেন কি না তা স্পষ্ট নয়।

মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই প্রতিবেদনটিকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর প্রভাব খেলার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সাথে ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বরাবরই সন্দেহের চোখে দেখে আসছেন। এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে এবং শিগগিরই নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠানেও লাখো ইরানি ট্রাম্পের মৃত্যু চেয়ে স্লোগান দিয়েছে। গত বুধবার ট্রাম্প ইরানের সাথে হওয়া সমঝোতা স্মারক "শেষ" বলে ঘোষণা করলেও, পর্দার আড়ালে এখনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। আগামী মধ্য-আগস্টের মধ্যে একটি পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'-এ যুদ্ধবিমানগুলো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করা হয়েছিল এবং পাইলটরা মহড়াও দিয়েছিলেন। তবে আপাতত হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত