যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে 'যুদ্ধাপরাধের' অভিযোগ ইরানের

আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনে ইরানি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি নতুন ও অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা চালানো হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই বিস্ফোরক দাবি করেছেন।

ইসমাইল বাঘাই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি—অর্থাৎ যুদ্ধের একেবারে প্রথম দিনে একটি স্পোর্টস হল বা ক্রীড়া মিলনায়তনে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়াবহ বিবরণ শেয়ার করেন। তিনি জানান, ওই হামলায় ২ বছরের এক কন্যাসন্তানসহ মোট ২৪ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

ইরানি মুখপাত্র এক্সে লিখেছেন, ওই হামলায় মার্কিন বাহিনী একটি নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করেছিল। মূলত ‘এয়ারবার্স্ট’ বা আকাশে বিস্ফোরিত হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে হামলাটি চালানো হয়, যা থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতির ‘টাংস্টেন পেলেট’ বা ধাতব বুলেট চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই ধাতব কণাগুলো অত্যন্ত বিধ্বংসী শক্তির সাথে চারপাশের প্রতিটি দিককে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছিল।

বাঘাই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি কোনো ভুল বা আকস্মিক দুর্ঘটনা ছিল না। এটি ছিল ইরানি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর একটি নতুন অস্ত্র ব্যবস্থার ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্য আমেরিকার একটি পরিকল্পিত ও সুনির্ধারিত সিদ্ধান্ত।

আমেরিকার এই নির্মম পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ধরনের একটি জঘন্য কাজ নিশ্চিতভাবেই একটি স্পষ্ট এবং অত্যন্ত ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।