ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন পর্যটকরা। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝআকাশে আচমকাই থমকে যায় ক্যাবল কার বা গন্ডোলা পরিষেবা। এতে বিভিন্ন ক্যাবিনের ভেতরে আটকা পড়েন নারী- শিশুসহ প্রায় ৩০০ পর্যটক। এসময় তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (২৫ মে) জম্মু-কাশ্মীরের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র গুলমার্গে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভারতীয় সেনা, পুলিশ এবং বেসামরিক প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম এই ক্যাবল কারটি হঠাৎ যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে মাঝপথে থেমে যায়। এতে ঝুলন্ত ক্যাবিনের ভেতর নারী ও শিশুসহ বহু পর্যটক ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করেন। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভারতীয় সেনাবাহিনী, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, পর্যটকরা অসহায়ভাবে ক্যাবিনের ভেতর অপেক্ষা করছেন এবং নিচে উদ্ধারকারী দল তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চালাচ্ছে।
উদ্ধারকারী দলের এক কর্মকর্তা জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে গন্ডোলা পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আটকে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল। পাশাপাশি, রোপওয়ের ত্রুটি মেরামত করে পরিষেবা সচল করতে দ্রুত কারিগরি বিশেষজ্ঞদের একটি দলও কাজ শুরু করে।
এই ঘটনার পর জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি জারি করে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুলমার্গ গন্ডোলা ক্যাবল কারে যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সমস্ত ক্যাবিন সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। প্রশিক্ষিত দল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
উল্লেখ্য, গুলমার্গের এই গন্ডোলা প্রজেক্টটি বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় এবং উচ্চতম ক্যাবল কার হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে কাশ্মীর ভ্রমণে আসা হাজার হাজার পর্যটকদের কাছে এটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
সূত্র: এনডিটিভি