হামলা-পাল্টা হামলার পরও ভেঙে যায়নি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাত ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই উত্তেজনার পরও কোনো পক্ষই এখনো ‘যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে’ বলে ঘোষণা দেয়নি।

মূলত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো দুই দেশের সামরিক বাহিনী সরাসরি সংঘাতে জড়াল। সাম্প্রতিক এই সংঘাতের সব তথ্য এখন পর্যন্ত কেবল ইরানি গণমাধ্যমের সূত্র ধরে সামনে আসছে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির একটি প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, একটি মার্কিন ট্যাংকারসহ মোট চারটি জাহাজ তাদের রাডার বন্ধ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের পরিচয় জানতে চাইলে জাহাজগুলো কোনো সাড়া দেয়নি বা সহযোগিতা করেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইআরজিসি বাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের সতর্ক করে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, এই ঘটনার পর মার্কিন বাহিনী বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছাকাছি তিনটি স্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে এতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এর জবাবে আইআরজিসি ওই অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়, যেখান থেকে বন্দর আব্বাসে মার্কিন আক্রমণটি পরিচালনা করা হয়েছিল। আইআরজিসি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো মার্কিন ঘাঁটির নাম উল্লেখ না করলেও, কুয়েতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার কারণে ধারণা করা হচ্ছে যে হামলাটি কুয়েতের ঘাঁটিতেই চালানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর আইআরজিসি একটি সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন যদি পুনরায় করা হয়, তবে তাদের পরবর্তী জবাব আরও অনেক বেশি জোরালো ও চূড়ান্ত হবে।

তবে এই চরম উত্তেজনা ও একের পর এক পাল্টা হামলার পরও ওয়াশিংটন কিংবা তেহরান—কেউই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের কথা জানায়নি। পরিস্থিতি এখনো আলোচনার টেবিলেই রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।