ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ায় তীব্র অর্থনৈতিক ধাক্কা

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানো যুদ্ধ এবং সামরিক আগ্রাসন এশিয়ার দেশগুলোতে এক বিশাল অর্থনৈতিক ধাক্কা দিয়েছে। অথচ ওয়াশিংটন এই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর তাদের এই যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব সম্পর্কে পুরোপুরি অসচেতন বা উদাসীন বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলন ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এ মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রক্ষিতে এই মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত থিংক ট্যাংক ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালাইসিস’-এর পরিচালক মাইকেল শুব্রিজ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন নীতির এই বৈপরীত্য তুলে ধরেন।

সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বার্তা দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র চীনের সাথে কোনো ধরনের প্রকাশ্য সংঘাতে জড়াতে চায় না। শুব্রিজ বলেন, হেগসেথ তাঁর বক্তব্যে এমন এক আমেরিকার ছবি আঁকার চেষ্টা করেছেন যা শক্তিশালী, শান্ত ও স্পষ্ট এবং যা এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়।

তবে এই আশ্বাসের বাণীর কঠোর সমালোচনা করে শুব্রিজ বলেন, এই ধরনের সান্ত্বনাদায়ক কথা হয়তো এশিয়ার দেশগুলো শুনতে পছন্দ করবে, কিন্তু বাস্তবে আমরা মধ্যপ্রাচ্যে যে কোলাহলপূর্ণ ও চরম আক্রমণাত্মক আমেরিকাকে যুদ্ধ করতে দেখছি, কিংবা দক্ষিণ আমেরিকায় তাদের যে সামরিক আগ্রাসন লক্ষ্য করছি—তার সাথে হেগসেথের এই ছবির কোনো মিল নেই।

মিত্রদের উদ্দেশে হেগসেথের দেওয়া ‘সামরিক খাতে আরও বেশি খরচ করার’ আহ্বানকে একটি ‘কৌশলগত ও জটিল ফাঁদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন শুব্রিজ। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বমঞ্চে আমেরিকা দিন দিন একটি ‘অনির্ভরযোগ্য’ রাষ্ট্র হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে।

শুব্রিজ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, এশিয়ার দেশগুলো বরাবরই মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) সরবরাহের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। তারা ভেবেছিল এই জ্বালানি সরবরাহ কখনোই বাধাগ্রস্ত হবে না। কিন্তু আমেরিকা এবং ইসরায়েল কোনো ধরনের দূরদর্শিতা বা ভবিষ্যৎ ফলাফল চিন্তা না করেই মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তা পুরো এশিয়াজুড়ে এক বিশাল অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও ধাক্কা ডেকে এনেছে।

তিনি আরও যোগ করেন, এই যুদ্ধের ফলে আমেরিকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিপক্বতা এবং তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে এশিয়ার দেশগুলোর মনে যে গভীর সংশয় ও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তা হয়তো মার্কিন প্রশাসন এখনও পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারছে না। সূত্র: আল জাজিরা