যুক্তরাষ্ট্র ইরান সংঘাতে পাকিস্তানের ভূমিকা কতটা কার্যকর

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু নতুন করে দুই দেশের সংঘাত শুরু হওয়ায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে, ইসলামাবাদ কি ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারবে?

পাকিস্তান এখনো কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত থামানোর মতো কার্যকর চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা পাকিস্তানের হাতে খুবই সীমিত।

জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করে স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করা। কিন্তু এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে। ১৪ জুলাই আবারও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে, যেগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে বলে তেহরানের অভিযোগ।

সংঘাতের মধ্যেও পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। একইভাবে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা আলোচনা করেছেন। পাকিস্তান আবারও বলেছে, এই সংকটের একমাত্র সমাধান সংলাপ ও কূটনীতি।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে পারলেও কোনো পক্ষকে চুক্তি মানতে বাধ্য করার ক্ষমতা রাখে না। তেহরানভিত্তিক গবেষক জাভাদ হেইরান-নিয়ার মতে, জুনের সমঝোতা মূল বিরোধের সমাধান করেনি; এটি ছিল কেবল যুদ্ধ থামানোর একটি সাময়িক উদ্যোগ। তাঁর ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের জন্য কৌশলগত সম্পদ, যা রক্ষায় দেশটি বড় ধরনের ঝুঁকিও নিতে প্রস্তুত।

দোহার গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের নির্বাহী পরিচালক দানিয়া থাফার বলেন, বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান দুপক্ষই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পক্ষে উত্তেজনা কমানো কঠিন। তবে যখন দুই পক্ষই বুঝবে যে সামরিক সংঘাত থেকে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না, তখন আবার আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে ইসলামাবাদভিত্তিক সানোবর ইনস্টিটিউটের প্রধান কামার চিমা মনে করেন, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দুই পক্ষের আস্থা। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, উভয় দেশই সংকটের সময় পাকিস্তানের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে। ফলে মধ্যস্থতার সুযোগ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ এখনো মীমাংসিত হয়নি। ইরান দাবি করছে, আগের সমঝোতায় তাদের এই নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি মানছে না। ফলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হওয়ার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র: আলজাজিরা

Attr/AHA
আরও পড়ুন