কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম যুক্ত করতে পারবেন না ট্রাম্প: মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক কেনেডি সেন্টারের নামের সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা আইনসঙ্গত নয় বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনাও স্থগিত করেছেন আদালত।

শুক্রবার (২৯ মে) দেওয়া রায়ে মার্কিন বিচারক কেসি কুপার বলেন, কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির নামে নামকরণ করা হয়েছে এবং পরিচালনা পর্ষদ অন্য কোনো ব্যক্তির নাম যুক্ত করতে পারে না।

এ রায়ে বিচারক লেখেন, ‘মার্কিন কংগ্রেস কেনেডি সেন্টারের নাম নির্ধারণ করেছে এবং কেবল কংগ্রেসই সেই নাম পরিবর্তন করতে পারে।’

রায়ের পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, তিনি কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্গঠন নিয়ে চলমান উদ্যোগ থেকে সরে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, কেন্দ্রটির পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কংগ্রেসের কাছে হস্তান্তরের জন্য তিনি বাণিজ্য বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নামসহ সব সাইনবোর্ড অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রটির ওয়েবসাইট থেকেও ‘ট্রাম্প কেনেডি সেন্টার’ বা ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প অ্যান্ড জন এফ. কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ নাম মুছে ফেলতে হবে।

বিচারক আরও নির্দেশ দেন, ভবিষ্যতে কেন্দ্রটির নাম প্রেসিডেন্ট কেনেডি ছাড়া অন্য কারও নামে করা যাবে না।

তবে কেনেডি সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। কেন্দ্রটির জনসংযোগবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রোমা ডারাভি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে আপিল আদালত জাতীয় সাংস্কৃতিক এ প্রতিষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে।’

রায়ে বিচারক বলেন, কেন্দ্রটির পুরোনো ভবনে সংস্কারকাজ চালানো যেতে পারে। তবে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া যাবে না।

তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পরিচালনা পর্ষদ তাদের আইনগত দায়িত্বের সব দিক যথাযথভাবে বিবেচনা করেছে এমন কোনো প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প গত বছর কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও কর্মসূচিগত পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে টিকিট বিক্রি কমে যায় এবং বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা শিল্পী নির্ধারিত অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন।