আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এখনই স্কুল বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই দেশটির সরকারের। সম্প্রতি মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রজার কাম্বা।
গত শুক্রবার ইবোলা কবলিত ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া সফরকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজেরাই ওষুধ খাওয়া। আমরা স্কুল বন্ধ করে শিশুদের দুবার শাস্তি দিতে চাই না। বরং স্কুলগুলোতে আরও কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ইবোলার এই ধরণটি ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) স্ট্রেইন। এতে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। কঙ্গোর ইতুরি, উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভু প্রদেশে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কঙ্গোতে ১,০৭৭টি সন্দেহজনক কেস শনাক্ত হয়েছে এবং অন্তত ২৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ৯ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস শনিবার বুনিয়া সফর করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহায়তা দিলেও এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে জরুরি। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, কঙ্গোতে পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরির অভাব থাকায় সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র প্রতিবেদনে আসা তথ্যের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।