ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন ঘাঁটিতে বিমান ও স্থল হামলা শুরু করেছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
গত রোববার (৩১ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এই অভিযানে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
নিখুঁত ও বিশেষ অভিযান
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির স্থল বাহিনী অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সতর্কতার সাথে এই বিশেষ সামরিক অভিযানটি পরিচালনা করছে।
তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অভিযানের কৌশলগত কারণে নির্দিষ্ট কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এছাড়া ইরাকের ঠিক কোন কোন এলাকায় এই নিখুঁত আক্রমণ চালানো হয়েছে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।
তেহরানের নিরাপত্তার প্রধান উদ্বেগ
দীর্ঘদিন ধরেই ইরাকের কুর্দিস্তান সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে বেশ কিছু ইরান-বিরোধী সশস্ত্র এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী অবস্থান নিয়ে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।
এই গোষ্ঠীগুলোর সীমান্তপারের নাশকতা ও সশস্ত্র তৎপরতা তেহরানের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় উদ্বেগের কারণ ছিল।
প্রাসঙ্গিক তথ্য: এর আগেও ইরান বেশ কয়েকবার ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে।
তেহরানের দাবি, তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো সীমান্ত অঞ্চলকে ব্যবহার করছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনে ইরানের এই সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে এই হামলার পর ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।