ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের চেয়ে তিনি ‘কম উৎসাহী’ ছিলেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
বুধবার (১৫ জুলাই) জনপ্রিয় পডকাস্টার জো রোগানকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি ইরান, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে এই মন্তব্য করেন।
জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরানের সঙ্গে আমরা সঠিক দিশায় এগোচ্ছি, যদিও এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা এবং তা পুনরায় সচল করার ক্ষমতা নস্যাৎ করা একটি স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য ছিল। তবে এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি প্রয়োজন।
আমেরিকার বর্তমান কৌশলগত অগ্রাধিকার সম্পর্কে ভ্যান্স বলেন, আমাদের তাত্ক্ষণিক কৌশলগত অগ্রাধিকার হলো হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধুমাত্র সামরিক শক্তি দিয়ে সমুদ্রপথে নৌযান চলাচল নিরাপদ রাখা অত্যন্ত কঠিন, কারণ সস্তা ড্রোনের মাধ্যমেও এখন অনায়াসে জাহাজে হুমকি সৃষ্টি করা যায়।
ইরানের সাথে আলোচনার বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, যারা ইরানের সাথে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন, তাদের কাছে অন্তহীন ও কার্যকারিতাহীন বোমা হামলা ছাড়া বাস্তবসম্মত কোনো সমাধান নেই।
তিনি যোগ করেন, আমি সামরিক অভিযানের ব্যাপারে অন্যদের চেয়ে কম উৎসাহী ছিলাম, তবে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর তা বাস্তবায়নে সমর্থন দিয়েছি।
জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যকে কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার মুখোমুখি সংঘাত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ওয়াশিংটন যেমন ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ, তেমনি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোরও কাছাকাছি, যদিও সব বিষয়ে তাদের মধ্যে সবসময় মিল থাকে না।
একই সাথে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, অন্য দেশের সরকার উৎখাত করতে হাজার হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর যুগ শেষ হয়ে গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী অন্য কোনো দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না।
সূত্র: আল জাজিরা
কোনো ইসরায়েলিকে মালয়েশিয়ায় থাকতে দেওয়া হবে না
দক্ষিণ ইরানে সাম্প্রতিক হামলায় ৩০ বেসামরিক নাগরিক নিহত
ইরানে ব্রিটিশ নাগরিকের দুই বছরের কারাদণ্ড