চীন-পাকিস্তানকে চাপে রাখতে সাবমেরিন শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত

ভারত মহাসাগরে চীন ও পাকিস্তানের যৌথ শক্তির উত্থান এবং বহিরাগত দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের নৌবহর ও সাবমেরিন সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। 

নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে. ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে অত্যাধুনিক সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে তারা।

‘সহযোগিতা থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগ’

পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতীয় নৌপ্রধান বলেন, "ভারত মহাসাগরে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বাইরের শক্তিগুলোর অনাকাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। 

এ বিষয়ে আমরা পুরোপুরি সতর্ক রয়েছি। এই অঞ্চলে বাইরের শক্তির ক্রমাগত উপস্থিতি আমাদেরকে ‘সহযোগিতার যুগ’ থেকে ‘তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে’ নিয়ে যাচ্ছে।"

তিনি আরও জানান, একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনী চারপাশের সব ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সক্ষমতাভিত্তিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রজেক্ট ৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I): ভারতের মেগা প্রজেক্ট

ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত সরকার 'প্রজেক্ট ৭৫ ইন্ডিয়া' (P-75I) নামের একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী জানান, এই প্রকল্পের আওতায় খুব শীঘ্রই ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হতে যাচ্ছে:

৬টি অত্যাধুনিক স্টেলথ সাবমেরিন (যা রাডারে ধরা না পড়ে শত্রুপক্ষের ওপর আঘাত হানতে সক্ষম)।

২০০টিরও বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ।

বিশেষত্ব: এই বিশাল নৌবহরের সব জাহাজ ও সাবমেরিন ভারতের নিজস্ব অর্থায়নে এবং 'মেক ইন ইন্ডিয়া' বা 'আত্মনির্ভর ভারত' নীতির আওতায় সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হবে।

চীন-পাকিস্তান অক্ষের কাউন্টার স্ট্র্যাটেজি

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিং ও ইসলামাবাদের যৌথ সামরিক তৎপরতা ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বিশেষ করে, সম্প্রতি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে চীনের তৈরি ৪টি আধুনিক ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন যুক্ত হওয়ার পর ভারতও নিজেদের রণকৌশল পুনর্নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে এই সামরিক আধুনিকায়ন করা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে ভারতের ন্যায্য স্বার্থ সুরক্ষা করা এবং এই অঞ্চলকে একটি স্থিতিশীল, মুক্ত, খোলা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা।"

ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারতের এই মেগা সাবমেরিন প্রকল্পের ফলে দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ও শক্তির ভারসাম্যে নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি ও পিটিআই