মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে ফিরে এলেন নেপালের বিখ্যাত মাউন্ট এভারেস্ট গাইড দাওয়া শেরপা। টানা ছয় দিন বরফে ঢাকা পাহাড়ে নিখোঁজ থাকার পর, যখন পরিবার তাকে মৃত ভেবে শেষকৃত্যের আচার-অনুষ্ঠান শুরু করেছিল, ঠিক তখনই এলো তার জীবিত ফেরার অবিশ্বাস্য খবর।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তাকে এভারেস্টের বিপজ্জনক এলাকা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
বরফের ঢালে হামাগুড়ি দিয়ে নামছিলেন দাওয়া
পর্বতারোহীদের নামকরা সংগঠন '৮কে এক্সপেডিশন'-এর কর্মকর্তা পেম্বা শেরপা জানান, বৃহস্পতিবার এভারেস্টের কুখ্যাত 'আইসফল' এলাকার কাছাকাছি একটি বরফের ঢালে হামাগুড়ি দিয়ে নিচে নামতে দেখা যায় ৫২ বছর বয়সী দাওয়া শেরপাকে। সেখানে নিয়োজিত একটি পরিচ্ছন্নতাকর্মী দল তাকে দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে খাবার ও পানি সরবরাহ করে। এরপর জরুরি ভিত্তিতে হেলিকপ্টারে করে তাকে কাঠমান্ডুর হ্যামস (HAMS) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শোকের বাড়ি রূপ নিলো আনন্দের কান্নায়
দাওয়া শেরপার বেঁচে থাকার খবরটি যখন আসে, তখন তার বাড়িতে চলছিল শোকের মাতম। দাওয়ার স্ত্রী দামু শেরপা জানান, প্রথমে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে তারা জানতে পারেন দাওয়া বেঁচে আছেন। এরপর পরিচিত একজন ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দাওয়ার মেয়ে মেন্ডো লহামু শেরপা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন:
"আমরা গত কয়েকদিন ধরে বাবার শেষকৃত্যের আচার-অনুষ্ঠান করছিলাম। তাই প্রথম যখন খবরটি পাই, বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিটি সত্যিই আমার বাবা। পরে উদ্ধারকারীদের কাছ থেকে ছবি আনিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা সবাই আনন্দে কেঁদে ফেলি।"
যেভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন দাওয়া শেরপা
গত ২৯ মে শেষবার দাওয়া শেরপাকে পাহাড় থেকে নিচে নামতে দেখা গিয়েছিল। তার সঙ্গে থাকা এক পোলিশ পর্বতারোহী নিরাপদে বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে পারলেও, দাওয়া মাঝপথেই নিখোঁজ হন।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান শুরু করতে দেরি হয় এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে হেলিকপ্টারও তাকে খুঁজে পায়নি। ফলে সবাই ধরে নিয়েছিলেন তিনি আর বেঁচে নেই।
এভারেস্টে রেকর্ডের মৌসুমেও কাটেনি ঝুঁকি
চলতি মৌসুমে এভারেস্টে রেকর্ড সংখ্যক পর্বতারোহী আরোহণ করেছেন। এক হাজারের বেশি আরোহী ও গাইড ইতোমধ্যে বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়ায় পা রেখেছেন। তবে এভারেস্টের চিরচেনা বিপদ এখনো কমেনি; চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ জন পর্বতারোহী প্রাণ হারিয়েছেন।
দাওয়া শেরপার এই অলৌকিক জীবন ফিরে পাওয়ার ঘটনাটি এভারেস্টের চরম প্রতিকূলতা এবং শেরপাদের অদম্য সাহসের আরও একটি জীবন্ত উদাহরণ হয়ে রইল।