বালেন্দ্র শাহের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল নেপাল

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) আন্দোলনের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এখন সেই তরুণদেরই তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। বস্তি উচ্ছেদ ও পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে তার পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী কাঠমাণ্ডুসহ দেশের বিভিন্ন শহরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

গত এপ্রিল থেকে কাঠমাণ্ডুসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি বস্তি গুঁড়িয়ে দেয় সরকার। এতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। তাদের সাময়িকভাবে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়।

তবে গত ২ জুলাই সরকার নির্দেশ দেয়, ৬ জুলাইয়ের মধ্যে সব আশ্রয়কেন্দ্র খালি করতে হবে। বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় ৬০টির বেশি পরিবার ওই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায়।

এরপর গত শুক্রবার কাঠমাণ্ডুর একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার পানি ঢুকে পড়লে নিরাপত্তা বাহিনী সেখান থেকে প্রায় ১৫০ জনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। পরদিন শনিবার পরিস্থিতি দেখতে যাওয়া জেন-জি প্রতিনিধিদলের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে এক আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার কাঠমাণ্ডুর পাসপোর্ট অফিসের সামনে অ্যাপভিত্তিক বাইক চালক গণেশ নেপালিকে ১ হাজার রুপি জরিমানা করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ দিতে না পারার কথা জানালেও পুলিশ তার সঙ্গে কঠোর আচরণ করে। পরে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে হতাশায় নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন গণেশ। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

গণেশ নেপালির মৃত্যু এবং আশ্রয়কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সরকারের সমালোচনা শুরু করেছে বিরোধী দলগুলো। নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ও নেপালি কংগ্রেস পার্লামেন্টে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও বিরোধীদের অভিযোগ, সমাধানের বদলে প্রশাসন দমনমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, আন্দোলন দমনে কয়েকজন সমাজকর্মী, ছাত্রনেতা ও সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর প্রতিবাদে রবিবার ‘যৌথ জাতীয় বস্তিবাসী ফ্রন্ট’-এর ব্যানারে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী রাজপথে বিক্ষোভ করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘গরিবের ওপর অত্যাচার বন্ধ করো’, ‘মানবাধিকার রক্ষা করো’, ‘বেআইনি গ্রেপ্তার বন্ধ করো’ এবং ‘ভূমিহীনদের আশ্রয় দাও’-এ ধরনের স্লোগান দেখা যায়।

গত বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলনে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে ওলি পদত্যাগ করলে চলতি বছরের ৫ মার্চ নেপালে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ওই নির্বাচনে ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১২৫টিতে জয় পায় ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহের রাজনৈতিক দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি)। তরুণদের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে বালেন্দ্র নেপালের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।

তবে ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণে তার প্রধান সমর্থক জেন-জি তরুণরাই এখন তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে।

NM/YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত