ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি আর এক বছরও ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না বলে দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। তার আশঙ্কা, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী দেশে জরুরি অবস্থার মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতে পারেন।
বুধবার (৪ জুন) নয়াদিল্লিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
‘ভেঙে পড়ছে মোদির শাসন কাঠামো’
রাহুল গান্ধী দাবি করেন, যে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভর করে এত দিন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত হচ্ছিল, তা এখন ভেতর থেকেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষ বাড়ছে এবং সেখানকার কর্মকর্তারা মোদি সরকারের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন।
বিরোধী শিবিরে পৌঁছাচ্ছে গোপন তথ্য
গোটা ব্যবস্থার ভেতর থেকে একটি বড় ঝাঁকুনি আসতে চলেছে উল্লেখ করে কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা বলেন:
"দেশে সিস্টেমের মধ্যে একটি সংঘবদ্ধ বিক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। যে সিস্টেম একসময় নরেন্দ্র মোদি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন, সেই সিস্টেমের মানুষই এখন আমাকে তাঁর সম্পর্কে গোপন তথ্য দিচ্ছেন।"
রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য নিয়মিতভাবে তাঁর কাছে পৌঁছাচ্ছে। এই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই তাঁর মূল্যায়ন— নরেন্দ্র মোদি আর এক বছরও প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না।
নজরদারির বাইরে নয় নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থাও
বক্তব্যে নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়েও কথা বলেন রাহুল। তিনি দাবি করেন, "যে নির্বাচন কমিশনকে মোদি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলে মনে করা হয়, সেই নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকেও আমার কাছে বার্তা আসে। এমনকি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এখন নিয়মিত তথ্য পাঠাচ্ছেন।"
মোদি সরকারের ভুল নীতিতে বড় অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা
ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন লোকসভার এই বিরোধী দলনেতা। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের সামনে একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ধেয়ে আসছে।
রাহুল গান্ধীর মতে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির যেকোনো ধাক্কা সামলানোর জন্য যে ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘শক অ্যাবজরবার’ প্রয়োজন, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তা আগেই ধ্বংস করে ফেলেছে।
ফলে বিশ্ব অর্থনীতির সামান্য অস্থিরতাও ভারতের ওপর তীব্র ও ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।