লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হিজবুল্লাহর ভূমিকাকে অস্বীকার করা মানে ইসরায়েলি আগ্রাসনের সামনে আত্মসমর্পণ করা—এমনটাই মন্তব্য করেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সংসদীয় কমিশনের সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি।
সম্প্রতি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং প্রধানমন্ত্রী নোয়াফ সালামের দেওয়া কিছু বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
লেবাননের পতন ঠেকানোর ‘প্রতিরক্ষা প্রাচীর’ হিজবুল্লাহ
আলাউদ্দিন বোরুজেরদি বৈরুতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আঞ্চলিক বাস্তবতা সঠিকভাবে অনুধাবন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আজ যদি হিজবুল্লাহর প্রতিরোধযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও দৃঢ় অবস্থান না থাকত, তবে ইসরায়েলি বাহিনী অনেক আগেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের কেন্দ্রস্থল পর্যন্ত পৌঁছে যেত।’
তিনি হিজবুল্লাহকে লেবাননের পতন ঠেকানোর একটি শক্তিশালী ‘প্রতিরক্ষা প্রাচীর’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বোরুজেরদির মতে, লেবাননের রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্পষ্ট করে স্বীকার করা উচিত যে—দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার সিংহভাগ দায়িত্ব এই প্রতিরোধ আন্দোলনই পালন করে আসছে।
সেনাবাহিনী ও হিজবুল্লাহর যৌথ প্রতিরোধ
ইরানের এই সংসদ সদস্য মনে করেন, লেবাননের সরকারি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি হিজবুল্লাহই ইসরায়েলের দখলদারিত্বের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা লেবাননের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পরিস্থিতির সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহ কোনো বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী নয়, বরং তারা লেবাননের জনগণ ও রাষ্ট্রকাঠামোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সত্যকে উপেক্ষা করলে তা কেবল লেবাননের শত্রু রাষ্ট্রগুলোর জন্যই সুবিধা বয়ে আনবে।
লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয়
হিজবুল্লাহর প্রতি ইরানের সমর্থনকে ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ (Axis of Resistance) অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বোরুজেরদি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান সবসময় লেবাননের স্বাধীনতা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে।
হিজবুল্লাহকে তেহরানের সমর্থন দেওয়া কোনো অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ নয়; বরং এটি সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মুসলিম বিশ্বের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।