প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান অত্যন্ত শক্তিশালী ও গর্বিত জাতি হওয়ায় চুক্তিতে সম্মত হয়নি 

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ১২:২৮ এএম

ইরান অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গর্বিত জাতি হওয়ায় চলমান যুদ্ধ বন্ধে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে সম্মত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

তবে শেষ পর্যন্ত চুক্তি করা ছাড়া তেহরানের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

গত শুক্রবার (৫ জুন) উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলসে এনবিসি নিউজের বিখ্যাত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’

চার মাসে পদার্পণ করা এই যুদ্ধ নিরসনে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকার মাঝেই ট্রাম্পের এমন বক্তব্য সামনে এলো। 

এর আগে গত এপ্রিলে উভয় পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং কয়েক দফায় এর মেয়াদও বাড়ানো হয়। 

তবে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টা বিমান হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এই সামরিক সংঘাতের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রতিনিধি পরিষদের আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন:

ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক অভিযানটি ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার জবাবেই মার্কিন বাহিনী এই আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে।

বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সংকট ও ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ

সংঘাতের জেরে কয়েক মাস আগে ইরান বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেয়। 

এর ফলে:
১. আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
২. যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্যাসের মূল্য তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফলশ্রুতিতে, সাধারণ মার্কিনিদের ওপর তৈরি হওয়া এই অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান নেতৃত্ব ও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর মার্কিন জনগণের ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।

"এই ধরনের জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়।"
— দ্রুত চুক্তি করার জন্য চাপ দেওয়া সমালোচকদের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাথে তুলনা ও ইরানের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি

দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে ইরানি নেতারা মার্কিনিদের যে ক্ষতি করে আসছেন, সেই ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প এই সংঘাতের সময়কালকে দীর্ঘস্থায়ী ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাথে তুলনা করেন। তিনি দাবি করেন, যেখানে ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল, সেখানে তিনি মাত্র তিন মাসের মধ্যেই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছেন।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে:

ইরানের ড্রোন তৈরির কারখানা এবং মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশ এখন ধূলিসাৎ।

যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের কাছে মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে।

ইরানের পাল্টা আঘাত ও যুদ্ধের মূল কারণ

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হলেও ইরান যে এখনো পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়নি, তা চলতি সপ্তাহের শুরুতেই প্রমাণিত হয়েছে। 

পারস্য উপসাগরজুড়ে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। এমনকি কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ইরানি হামলার আঘাত লেগেছে।

উল্লেখ্য, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে মূলত এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।

আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে চুক্তি?

সম্প্রতি আরেকটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ‘লেবার ডে’ বা শ্রম দিবসের আগেই ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হতে পারে। 

তবে ইরানের সাথে কোনো চুক্তি সফল না হলে মার্কিন প্রশাসন অন্য কোনো কঠোর পথ বেছে নিতে পারে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা আগামীতে চরম সংঘাতের রূপ নিতে পারে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ।

HN
আরও পড়ুন