যুদ্ধবিরতির আড়ালে লেবাননের ‘গাজাকরণ’

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকা মানুষদের খোঁজে উদ্ধারকর্মীদের তল্লাশি এখন একটি পরিচিত ও নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

ইসরায়েলের এই আক্রমণাত্মক ধরনকে এখন ‘লেবাননের গাজাকরণ’ (Gazafication of Lebanon) বলে অভিহিত করা হচ্ছে। মূলত গাজা উপত্যকায় চালানো ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে যেসব নির্মমতাকে ইসরায়েল স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করেছে, সেগুলোই এখন লেবাননে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এই ‘গাজাকরণ’ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গাজার মতোই এখন দক্ষিণ লেবাননের স্কুলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। একইভাবে বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে লেবাননের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে। এর পাশাপাশি সাংবাদিকদের হত্যা এবং প্যারামেডিক ও উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে তথাকথিত ‘ডাবল ট্যাপ’ (একই স্থানে পরপর দুবার) হামলা। এই বেআইনি হামলায় ইতোমধ্যে শত শত ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ প্যারামেডিক প্রাণ হারিয়েছেন। গাজায় যেভাবে একের পর এক ফিলিস্তিনি পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে, তারই প্রতিধ্বনি দেখা যাচ্ছে লেবাননেও, যেখানে বহু পরিবার পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

এই গাজাকরণ প্রক্রিয়াটি এখন যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রেও প্রসারিত হয়েছে। গাজায় প্রথম প্রবর্তিত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা অদৃশ্য সীমান্ত রেখাটি ইতোমধ্যে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ অঞ্চলকে গ্রাস করে নিয়েছে। ঠিক একইভাবে লেবাননেও এই ‘ইয়েলো লাইন’ এখন দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে এবং এই দুটি অদৃশ্য রেখাই ক্রমাগত বড় হচ্ছে।

চলমান এই তথাকথিত যুদ্ধবিরতির সময়েও লেবাননের বিভিন্ন জনপদ ও কমিউনিটিগুলোকে পাইকারিভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ঠিক যেভাবে গত আট মাসের যুদ্ধবিরতির নামে গাজার বেইত হ্যানুন, রাফাহ এবং অন্যান্য এলাকাগুলোকে মানচিত্র থেকে পুরোপুরি মুছে দেওয়া হয়েছিল, লেবাননেও এখন ঠিক একই ধরনের ‘গাজাকরণ’ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল জাজিরা