যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে কেন্দ্র করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেছে দেশটির সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীরা। গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে আমেরিকার সাথে এই চুক্তি নিয়ে টেলিভিশনে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন আরাগচি। এর পরপরই মাসহাদে অবস্থিত ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের সামনে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা কালো ও লাল পতাকা উড়িয়ে ‘অনুপ্রবেশকারী বেঈমান আরাগচির মৃত্যু হোক’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে শর্তে এই চুক্তি হতে যাচ্ছে, তা ইরানের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। তাদের অভিযোগ, চুক্তিটি সম্পন্ন হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হারাবে ইরান এবং ইরানি আলোচকরা পশ্চিমাদের কাছে অনেক বেশি ছাড় দিয়েছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন, আজ রোববারই (১৪ জুন) ইরানের সাথে এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের বাধা-বিঘ্নহীন চলাচল নিশ্চিত হবে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ রোববার চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি সমঝোতা হতে পারে।
এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিরুদ্ধে রাজধানী তেহরানসহ পুরো ইরানে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হয়ে হাজারো জনতা সরকারের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধরনের সমঝোতার তীব্র বিরোধিতা করছেন।