সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পন্ন হওয়া কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফল নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন ইরানের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
এই সফরকে অত্যন্ত সফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার দৃষ্টিতে এই সফরের বড় কিছু অর্জন রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, লেবানন পরিস্থিতি, তেল রপ্তানিতে ছাড় এবং অবরুদ্ধ তহবিল (Frozen funds) মুক্ত করার বিষয়ে আমরা বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছি। অবশ্য আমরা বিশ্বাস করি এটি কেবল কাজের শুরু এবং আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।”
গালিবাফ নিশ্চিত করেছেন যে, আলোচনার প্রেক্ষিতে ইরানের অবরুদ্ধ তহবিলের দুটি কিস্তিতে মোট ১২ বিলিয়ন (১২০০ কোটি) মার্কিন ডলার মুক্ত করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে বলে জানান তিনি।
এই বিষয়ে গালিবাফ বলেন, “যেহেতু চূড়ান্ত চুক্তি এখনো হয়নি, তাই আমাদের তেল বিক্রি এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ ছাড়ের (Waiver) প্রয়োজন ছিল। এই ছাড়গুলো এখন নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলোও স্বাক্ষরিত হয়েছে।”
লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে গালিবাফ জানান, দুই পক্ষই সেখানে সার্বিক সমন্বয় সাধনের জন্য একটি কেন্দ্র বা সেন্টার স্থাপনে সম্মত হয়েছে। এই কেন্দ্রটি যেকোনো ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তি করবে, যাতে সেখানে পুনরায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। একই সাথে ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকাগুলো খালি করা এবং লেবাননের জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানোর বিষয়টিও এই সমঝোতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “সবার জানা উচিত যে, এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কখনোই যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে না।”
তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরণের অস্পষ্টতা বা বিরোধ এড়াতে একটি সমন্বয় প্রক্রিয়া চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে দুই পক্ষ। এর অধীনে একটি বিশেষ ‘হটলাইন’ এবং একটি যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। সূত্র: আল জাজিরা