স্টারমারের পদত্যাগের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর যুক্তরাজ্যের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্টারমার জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষেই নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব বুঝে নেবেন। এর মধ্যেই নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে তিনি নিজের দল লেবার পার্টিকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

এদিকে সোমবার (২২ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে পরবর্তী সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ‘কিং অব দ্য নর্থ’ খ্যাত অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এবং সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নারসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

লেবার পার্টির এমপি এবং সাধারণ জনগণের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। প্রায় এক দশক ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করা বার্নহ্যামের রয়েছে দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। সবশেষ গত শুক্রবার পার্লামেন্টের একটি আসনে বিজয়ী হয়ে তিনি দলে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে নামতে তার অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। এর আগে ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লি আসনের এমপি থাকাকালীন তিনি স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। এর আগে ২০১০ ও ২০১৫ সালে দুবার দলীয় প্রধান হওয়ার লড়াইয়ে নামলেও যথাক্রমে এড মিলিব্যান্ড এবং জেরেমি করবিনের কাছে তিনি হেরে যান। তবে এবার তার সম্ভাবনা সবচেয়ে উজ্জ্বল।

অ্যাঞ্জেলা রায়নার

যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নার দেশটির রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নারী। চরম দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা রায়নার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। পরবর্তীতে কেয়ার ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করার সময় ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে আগমন ঘটে। ২০১৫ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর জেরেমি করবিনের ছায়া মন্ত্রিসভায় তিনি গৃহনির্মাণ ও ভাড়াটেদের অধিকার সংস্কারে বড় ভূমিকা রাখেন। তবে ২০২৫ সালে একটি বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগে তিনি নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেছিলেন।

ওয়েস স্ট্রিটিং

২০২৪ সালে লেবার পার্টি সরকার গঠনের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ওয়েস স্ট্রিটিং, তবে গত মে মাসে তিনি পদত্যাগ করেন। এনএইচএস (NHS)-এর চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা রোগীদের দীর্ঘ তালিকা কমিয়ে এনে তিনি ব্যাপক সাফল্য কুড়িয়েছেন। ২০১৫ সালে প্রথমবার এমপি হওয়া স্ট্রিটিং দলের মধ্যপন্থী ও ডানপন্থীদের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্য। তবে দলের সাধারণ সদস্যদের কাছে তার অতিরিক্ত ‘ডানপন্থী’ ভাবমূর্তি কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আলোচনায় আরও যারা আছেন

এই তিন শীর্ষ নেতা ছাড়াও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের নাম আসলেও তিনি বিবিসিকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তার জন্য এই অধ্যায় শেষ। এছাড়া আলোচনায় আছেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ, তবে তার বিতর্কিত অভিবাসন নীতির কারণে সাধারণ সদস্যদের সমর্থন পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আরও রয়েছেন প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা সাবেক রয়্যাল মেরিন কর্মকর্তা আল কার্নস। সূত্র: বিবিসি।

YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত