ব্রাজিলের বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ এক বছর তদন্ত চালানোর পর দেশটির বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২২ জুলাই থেকে নতুন এই বর্ধিত শুল্ক কার্যকর করা হবে।
ওয়াশিংটন থেকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে ব্রাজিলের প্রধান রপ্তানি পণ্য যেমন— গরুর মাংস, কফি এবং নির্দিষ্ট কিছু বিমানের যন্ত্রাংশকে এই নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি, যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হয় না, সেগুলোকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে জানান, ব্রাজিলের অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণের কারণে মার্কিন শ্রমিক ও উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অবশ্য এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের জন্য ব্রাজিলের সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগের তদন্ত প্রতিবেদনে ব্রাজিলের কিছু নীতিকে ‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্কের একটি বড় অংশ বাতিল করে দিয়েছিল।
ব্রাজিলের ওপর এই নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে মার্কিন বাণিজ্য আইনের '৩০১ ধারা' ব্যবহার করা হয়েছে। চলতি বছর এই একই আইনের অধীনে ট্রাম্প প্রশাসন আরও বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক তদন্ত শুরু করেছে।
ইতিমধ্যেই জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ব্রাজিলের ক্ষেত্রে ডিজিটাল বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘পিক্স’ (PIX)-এর অন্যায্য প্রতিযোগিতা নিয়ে আপত্তি তুলেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ব্রাজিল যেভাবে মেক্সিকো ও ভারতকে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রও ঠিক একই রকম সুবিধা দাবি করে। তবে ৩০১ ধারার এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে— এমন সমালোচনা মার্কিন প্রশাসন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, এই ঘোষণার পর ব্রাজিল পাল্টা কোনো ব্যবস্থা নেবে না। তবে ব্রাজিল যদি কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তবে ওয়াশিংটনও তার উপযুক্ত জবাব দেবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এএফপি (AFP)