আল-আকসায় ইসরায়েলিদের অনুপ্রবেশ, ৮ মুসলিম দেশের তীব্র নিন্দা

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি মন্ত্রী ও হাজার হাজার ইহুদি বসতিস্থাপকের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ৮টি আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, পুলিশের কড়া পাহারায় ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থানে এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এসব উসকানিমূলক পদক্ষেপ ঘৃণা ও চরমপন্থাকে উসকে দিচ্ছে এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

দেশগুলো জোর দিয়ে বলে, দখলীকৃত জেরুজালেম বা এর ইসলামিক ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।

ইহুদিদের ধর্মীয় শোকের দিন 'তিশা বাভ' উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ৪,২০০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি বসতিস্থাপক ও কট্টর ডানপন্থীদের দল আল-আকসায় অনুপ্রবেশ করে, যা চলতি বছরের অন্যতম বৃহৎ ঘটনা। ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তায় কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদের প্রবেশদ্বারগুলোতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ফিলিস্তিদের প্রবেশে বাধা দেয় এবং কয়েকজনের ওপর হামলা চালায়।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখলের পর ১৯৮০ সালে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করে ইসরায়েল, যা ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত কর্তৃক অবৈধ বলে ঘোষিত হয়। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও চুক্তি অনুসারে, জর্ডান মনোনীত ‘জেরুসালেম ওয়াকফ’ আল-আকসা প্রাঙ্গণ পরিচালনা করে।

৮টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলকে আল-আকসায় প্রবেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।