যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য নয় : ট্রাম্পের প্রস্তাব নাকচ তেহরানের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আনা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আগ্রাসন বন্ধের কোনো সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বার্তা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানো হয়েছিল। তবে অতীতে চুক্তি ভঙ্গের অভিজ্ঞতা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান বিরোধের কারণে ইরান প্রস্তাবটিতে সায় দেয়নি।

২০১৮ সালে ইরান পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) মেনে চলা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে তা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। তেহরানের মতে, মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি তাদের রাজনৈতিক ইচ্ছানির্ভর এবং যা কখনোই দীর্ঘমেয়াদি বা নির্ভরযোগ্য নয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের একপাক্ষিক ও আধিপত্যবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বহাল রেখে কূটনৈতিক নাটক সাজানো তাদের পুরনো কৌশল।

যুদ্ধবিরতি বাতিলের এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তাপ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যার জবাবে তেহরানও মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ইরানি সামরিক সূত্রগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। চরম পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের তেল আবিব এবং লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি অবরুদ্ধ করারও হুমকি দিয়েছে তারা।

এদিকে তেহরানের আজাদি স্কয়ারে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে জনগণ সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে। স্বদেশে তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের মুখে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিয়েছে।

তথ্যসূত্র / সোর্স: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস (The New York Times) ও ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।