ওয়াশিংটনের চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্তে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে সম্মত নয় তেহরান। সম্প্রতি হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকলেও ইরান এখনো কোনো চুক্তির জন্য প্রস্তুত নয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সড়ক, রেলপথ ও সেতুর মতো বিভিন্ন অবকাঠামোতে ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে সুইজারল্যান্ডে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পর কদিনের মাথায় মার্কিন প্রশাসন আগ্রাসন শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে প্রাথমিক যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছিল, তা ভেস্তে যাওয়ার মুখে পড়েছে।
ভূ-রাজনীতির বিচারে ইরানের অন্যতম দুই মিত্র চীন ও রাশিয়া যেন এ যুদ্ধে তেহরানকে সাহায্য না করে, সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, এ সংঘাতে বেইজিং ও মস্কোর জড়িয়ে পড়া তাদের নিজেদের জন্যই ক্ষতিকর হবে।
সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে বেইজিং তেহরানের কাছে কোনো প্রকার অস্ত্র বিক্রি না করার আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের মাত্রা আরও বাড়াতে নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসন এখন এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখোমুখি অবস্থান করছে।
হোয়াইট হাউজ তাদের পরবর্তী সামরিক কৌশলের কথা স্পষ্টভাবে না জানালেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, কূটনৈতিক পথ খোলা রেখেই সেনা বাহিনীকে বড় ধরনের অভিযানের সংকেত দেওয়া হতে পারে।
অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তারা যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় ধরনের একটি হামলার খুব কাছাকাছি রয়েছেন। তবে নতুন করে তীব্র সংঘাত শুরু হলে তাতে ইসরাইলের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, সম্প্রতি আমেরিকার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু দক্ষিণাঞ্চল থেকে সরে রাজধানী তেহরানের কাছাকাছি বেসামরিক অবকাঠামোর দিকে সম্প্রসারিত হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীও ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, অ্যাক্সিওস এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।