রাশিয়া একটি 'ব্যাপক হামলার' প্রস্তুতি নিচ্ছে—ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এমন সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে জোরালো ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ চলাকালে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে এসব হামলা চালানো হয়।
রাজধানী কিয়েভে এই হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে শহরের সামরিক প্রশাসন।
এছাড়া দেশটির বিমান বাহিনী জানিয়েছে, কিয়েভের পাশাপাশি দানিপ্রো এবং ক্রাইভি রিহ শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বর্ষণ করা হয়েছে। একাধিক কৌশলগত যুদ্ধবিমান থেকে কয়েক দফায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় এবং রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় নোভোরোসিস্ক এলাকা থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে বিমান বাহিনী সতর্ক করে।
ক্রাইভি রিহের নিকটবর্তী রাদশনে গ্রামে হামলার পর প্রকাশিত এক ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, একটি বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের মাঝে বেশ কয়েকটি মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং চারপাশে আগুন জ্বলছে। এ সময় এক নারীকে ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি শিশুকে উদ্ধারের কথা জানাতে শোনা যায় এবং সেখানে আরও অনেক শিশু আটকে আছে বলে আকুতি জানানো হয়।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, আরও হামলার হুমকি রয়ে গেছে।
হামলার সময় সাধারণ মানুষকে কিয়েভের ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে ভিড় করে কম্বল ও ছোট তাবু খাটিয়ে রাত কাটাতে দেখা যায়।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, নিজ দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিবেশী পোল্যান্ড তাদের যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
উল্লেখ্য, এই হামলার মাত্র একদিন আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং রুশ আক্রমণ প্রতিহত করতে অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানান। এর পরপরই ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, আজ রাতেই রাশিয়া দেশজুড়ে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। সূত্র: সিএনএন