নতুন চুক্তিতে সিরিয়ায় রুশ ঘাঁটিতে ফের সামরিক সরবরাহ

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ এএম

সিরিয়ার সঙ্গে নতুন সমঝোতার পর দেশটিতে থাকা রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে আবারও সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় ১৮ মাসের আলোচনার পর আগস্টের শুরুতে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় রাশিয়ার তারতুস নৌঘাঁটি ও হেমেইমিম বিমানঘাঁটিকে ‘যৌথ প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কেন্দ্র’ হিসেবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব স্থাপনার বেসামরিক কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ সিরিয়ার হাতে থাকবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ঘাঁটি দুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রয়টার্সের যাচাই করা স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, রুশ কার্গো জাহাজ স্পার্টা তারতুস বন্দরে নোঙর করেছে। এর পাশে রয়েছে রুশ নৌবাহিনীর জ্বালানি ও রসদ সরবরাহকারী জাহাজ আকাদেমিক পাশিন। রুশ ট্যাংকার জেনারেল স্কোবেলেভকে বন্দরের বাইরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

স্পার্টা দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক রসদ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জাহাজটি এবং সংশ্লিষ্ট ট্যাংকার পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত।

আসাদকে ক্ষমতায় রাখতে সামরিক হস্তক্ষেপ

সিরিয়ার ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে রাশিয়া সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল। রুশ সামরিক সহায়তা আসাদ সরকারের অবস্থান শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে ২০২৪ সালে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সিরিয়ায় মস্কোর দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

এরপর থেকে নতুন সিরীয় প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে মস্কো। এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে রাশিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি—তারতুস ও হেমেইমিম—ধরে রাখা।

একদিকে সম্পর্ক পুনর্গঠন, অন্যদিকে আসাদকে ফেরত চায় দামেস্ক

সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চললেও বড় ধরনের বিরোধ রয়ে গেছে। দামেস্ক এখনো বাশার আল-আসাদের প্রত্যর্পণ দাবি করছে। ক্ষমতাচ্যুত আসাদ বর্তমানে মস্কোয় আশ্রয়ে রয়েছেন।

ফলে সিরিয়া ও রাশিয়ার নতুন সমঝোতা একদিকে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দরজা খুললেও অন্যদিকে আসাদের ভবিষ্যৎ এবং রুশ সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে জটিল দর-কষাকষি অব্যাহত রয়েছে।

তারতুস ও হেমেইমিম শুধু রাশিয়ার সিরিয়া-নীতি নয়, বরং ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে মস্কোর সামরিক উপস্থিতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ফলে নতুন চুক্তির মাধ্যমে ঘাঁটি দুটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা রাশিয়ার জন্য বড় কৌশলগত অর্জন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন