গাজা উপত্যকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং চলমান যুদ্ধ বন্ধে এক ঐতিহাসিক অগ্রগতির দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, গাজার সশস্ত্র দলগুলোকে পুরোপুরি অস্ত্র মুক্ত করতে একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' এক পোস্টে এ তথ্য জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি উল্লেখ করেন, 'বোর্ড অব পিস'-এর মাধ্যমে হামাসসহ গাজার সকল সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইসরায়েলি বাহিনীও ধাপে ধাপে গাজা থেকে সরে দাঁড়াবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক পদক্ষেপ।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারীরা কয়েক মাস ধরে হামাসের সাথে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে গেছেন। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর হামাসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
বোর্ড অব পিসের একজন কর্মকর্তা জানান, চুক্তির শর্তানুসারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত কমিটির কাছে তাদের সব অস্ত্র জমা দেবে। প্রথমে আইনশৃঙ্খলা কাজে ব্যবহৃত ভারী অস্ত্র এবং পরবর্তীতে ব্যক্তিগত অস্ত্রগুলো হস্তান্তর করা হবে।
হামাসকে রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে নিষ্ক্রিয় করাই হলো ট্রাম্পের বহু-ধাপ বিশিষ্ট গাজা শান্তি পরিকল্পনার মূল শর্ত। এই প্রক্রিয়া সফল হলে গাজায় একটি অরাজনৈতিক প্রযুক্তিবিদ বা 'টেকনোক্র্যাট' অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের রাস্তা পরিষ্কার হবে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামাস শেষ পর্যন্ত এই কঠিন শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে চলবে কি না—তা নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ এর ওপরই নির্ভর করছে গাজার পুরো শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা।
যদি চুক্তিটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গাজার পুরো শাসনভার নিজেদের হাতে তুলে নেবে। এর মাধ্যমে হামাসের দীর্ঘ শাসনকালের সমাপ্তি ঘটবে এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন একটি রাজনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে।
সংবাদের মূল সূত্র: ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর প্রতিবেদন।