পেন্টাগনের তথ্য আড়াল: ইরান যুদ্ধে মার্কিন ব্যয় ঘোষিত হিসাবের চারগুণ!

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি পেন্টাগনের দাবির চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি। পেন্টাগন যুদ্ধের আনুমানিক খরচ ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার দাবি করলেও স্বাধীন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই অঙ্ক ইতোমধ্যেই ১৫১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

ব্রিটিশ দৈনিক 'দ্য টেলিগ্রাফ'-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যুদ্ধ অর্থনীতিবিদদের গবেষণার বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়, মার্কিন সরকারের বাজেট তথ্যে তাৎক্ষণিক সামরিক ব্যয় দেখানো হলেও দীর্ঘমেয়াদি ও পরোক্ষ আর্থিক প্রভাব সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

হার্ভার্ডের অধ্যাপক লিন্ডা জে. বিলমেস পেন্টাগনের বর্তমান হিসাবকে ‘হিমশৈলের চূড়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় ৩১১.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হলে এই যুদ্ধের সর্বমোট অর্থনৈতিক প্রভাব ১ ট্রিলিয়ন (১ হাজার বিলিয়ন) ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিলমেস। একই সঙ্গে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিভ হ্যাঙ্কে একে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ‘পছন্দের যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুধু প্রত্যক্ষ সামরিক খরচই নয়, মার্কিন বাজারে জ্বালানির মূল্যে চরম আঘাত এনেছে এই সংঘাত। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ২১.৭ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৩৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ করদাতাদের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।

রাজনৈতিক সমালোচনা এড়াতে এবং কংগ্রেসে সম্পূরক বাজেট পাস সহজ করতে পেন্টাগন যুদ্ধের আসল ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে মূল খরচ ৮০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার হলেও বাস্তবে তা আড়াল করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই পেন্টাগন ব্যবহৃত গোলাবারুদ পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামতের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ধ্বংস হওয়া মার্কিন ঘাঁটিগুলোর পুনর্নির্মাণ ব্যয় এখনও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশল মার্কিন অর্থনীতিকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সামরিক বাজেটের পাশাপাশি মার্কিন করদাতাদেরও বছরের পর বছর এর খেসারত দিতে হবে।

তথ্যসূত্র: পার্সটুডে (Pars Today) এবং দ্য টেলিগ্রাফ (The Telegraph)

HN
আরও পড়ুন